২২ শ্রাবণে রবীন্দ্রনাথকে গান-কবিতা-নৃত্যে স্মরণ করল শিল্পকলা একাডেমি
১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, চিত্রকলা—সৃষ্টির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কবিগুরু রেখে গেছেন অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর। তাঁর সৃষ্টিতে মানুষ, প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা, স্বাধীনতা ও মানবমুক্তির যে অন্বেষণ, তা আজও মানুষের জীবনকে আলোড়িত করে।
কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘২২ শ্রাবণ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসের শ্রদ্ধার্ঘ্য’।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। মঞ্চে কবিগুরুর ‘পৃথিবী’ কবিতার কিছু অংশ পাঠ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং কবিগুরুর কবিতা পাঠ করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন চাঁদপুর জেলার জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁর মানবতাবাদী দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার কথাই তুলে ধরেন আলোচক অতিথিরা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকর্ম, দর্শন ও বাংলা সংস্কৃতিতে তাঁর অনন্য অবদানকে স্মরণ করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিগুরুর সৃষ্টি—সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়।
সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি পরিবেশনা উপস্থাপন করে। এরপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীদের সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রসংগীতের আবহ তৈরি হয়। তারা পরিবেশন করেন ‘আগুনের পরশমণি’।
অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন তানিয়া ইসলাম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ শহিদুল হক, অনিমা রায়, দেবলীনা সুর, আহমেদ শাকিল হাসমী, চঞ্চল খান, শাহনাজ নাসরিন ইলা, সোনিয়া পারভেজ, শিমু দে, পান্না দত্ত, মহাদেব সাহা এবং সৃজনী।
সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দ, নৃত্যনন্দন, ভাবনা, কায়া আশ্রম, আরাধনা, তপস্যা এবং দিবা সাংস্কৃতিক সংগঠন। এসব পরিবেশনার মধ্যে রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতার ভাব, প্রেম, প্রকৃতি, বিরহ, জীবন ও মৃত্যুচেতনা নৃত্যের ছন্দে তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি সংগীত কলেজের শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ছিল সমবেত সংগীত পরিবেশনা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন টিটো মুন্সী ও সীমা ইসলাম।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের অমর সৃষ্টি—গান ও কবিতার পাশাপাশি নৃত্য পরিবেশনার মধ্যে ছিল ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’, ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাঁকে’, ‘শেষ বেলাকার শেষের গানে’, ‘দিনের শেষে ঘুমের দেশে’, ‘নীল অঞ্জনঘন পুঞ্জছায়ায়’, ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’, ‘কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া’, ‘আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার’, ‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান’, ‘আর রেখ না আঁধারে’, ‘আমরা মিলেছি আজ মায়ের ডাকে’, ‘তোমার হলো শুরু আমার হলো সারা’, ‘আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’, ‘ওই আসন তলে মাটির পরে’, ‘দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায়’, ‘শেষ নাহি যে শেষ কথা’, ‘সকাতরে ঐ কাঁদিছ সকলেই’, ‘তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম’সহ বেশ কিছু কালজয়ী সৃষ্টি।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
