সরকারি কাজে এআই ব্যবহার কি গোপন তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি করছে
টেলিযোগাযোগ, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মানবিক রাষ্ট্র বইয়ের লেখক রকিবুল হাসান প্রথম আলোকে জানান, রাষ্ট্রীয় সব ডেটা স্পর্শকাতর নয়। সরকারের হাতে এমন অনেক তথ্য থাকে, যেগুলো উন্মুক্ত করে দিলে ক্ষতি নেই; বরং লাভ আছে। বেসরকারি খাত সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে জনগণের জন্য নতুন নতুন সেবা দিতে পারে। এতে বেসরকারি খাত গতিশীল হয়। আজকের গুগল ম্যাপ সহায়তা পেয়েছে মার্কিন সরকারের ওপেন ডেটা পলিসি থেকে। গুগল ম্যাপ তৈরির আগেই সরকারি খরচে বিশাল ডেটাসেট তৈরি হয়েছিল। গুগল সেটা কাজে লাগিয়েছে। জিপিএসের গল্পটাও একই রকম।
ইউএস এয়ারফোর্স যে জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করত, সেটিও ওপেন ডেটা পলিসির সুবাদে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছেছে। আজ আমরা সবাই ফোনে জিপিএস ব্যবহার করি, কারণ ওপেন ডেটা পলিসি। এবার বলা যাক এআইয়ের প্রসঙ্গে। সরকারি ওয়েবসাইট বা ওপেন ডেটা প্ল্যাটফর্মে যেসব ডেটা পাবলিকলি রাখা আছে, সেগুলো ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলে ব্যবহার করলে সমস্যা কম। কারণ, এসব তথ্য এমনিতেই পাবলিক ডোমেইনে পাওয়া যায়; কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন সংবেদনশীল আর গোপনীয় তথ্যের প্রসঙ্গ আসে। সরকারি সংজ্ঞা অনুযায়ী, এ ধরনের তথ্য দেশের বাইরের কোনো এআই প্ল্যাটফর্মে পাঠানো যাবে না। এ কারণেই এখন পৃথিবীজুড়ে সোভারেন এআই বা সার্বভৌম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এটি মূলত নিজের দেশের সীমানার ভেতর, নিজের নিয়ন্ত্রণে চলা এআই সিস্টেম।
