কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই মাদারীপুরের পেয়ারপুর ইউনিয়নে


মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থাকলেও নেই কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ফলে ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিকের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরের চরমুগরিয়া এলাকায় যেতে হয়। দূরত্ব ও যাতায়াতের ভোগান্তিতে অনেক শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণির পরই পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ছে। বিশেষ করে মেয়েদের অনেকেই বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। আর ছেলেদের একটি অংশ পড়াশোনা ছেড়ে ঝুঁকছে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার দিকে। ফলে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাবে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে পুরো ইউনিয়ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের চারটি মৌজায় রয়েছে আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া ইউনিয়নে দুটি গুচ্ছগ্রাম, দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও একটি মাদরাসা রয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ প্রবাসে থাকলেও এখানে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ফলে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে চরমুগরিয়া এলাকায় যেতে হয়। দীর্ঘ দূরত্ব ও যাতায়াতের ভোগান্তিতে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে মেয়েদের অনেকেই বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে।

অন্যদিকে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা থাকায় কিছু পরিবার অল্প বয়সেই সন্তানদের অবৈধ পথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করছে। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের শিকার হচ্ছে। ইউনিয়নে একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও সেখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ না থাকায় কিশোর-কিশোরীদের একটি অংশ শিক্ষাজীবন থেকে সরে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইউনিয়নে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পেয়ারপুর ইউনিয়নের মধ্যপেয়ারপুর গ্রামের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নোমান বেপারী বলেন, আমাদের এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। নিজ এলাকার থেকে বেশ দূরে চরমুগরিয়া গিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে করে আমাদের যেতে হয়। এতে করে আমাদের টাকা ও সময় দুটিই ব্যয় করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময়েও প্রায় স্কুলে যেতে পারি না। সময়মতো ইজিবাইক পাওয়া যায় না। তাই এখানে মাধ্যমিক স্কুল খুব জরুরি।

আরেক শিক্ষার্থী লামইয়া আক্তার বলেন, আমরা কয়েকজন বান্ধবী মিলে প্রতিদিন চরমুগরিয়ার একটি বিদ্যালয়ে যাই। বিদ্যালয়টি বেশ দুরে হওয়ায় পরিবার থেকে আমাদের জন্য অনেক চিন্তা করেন। তাই আমাদের এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হলে, আমাদের বিশেষ করে মেয়ের অনেক উপকার হতো। কারণ অনেক মেয়েরা বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় ইভটিজিংসহ নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়।

নাম না প্রকাশে কয়েকজন অভিভাবক জানান, এই ইউনিয়নে মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় অনেক অভিভাবক তাদের মেয়ের বাল্যবিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে অভিভাবক আবার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অষ্টম শ্রেণির সন্তানদের আর পড়াশোনা করাচ্ছেন না। অপরদিকে ছেলেদের পড়াশোনা বাদ দিয়ে অবৈধপথে প্রবাসে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তাই এখানে জরুরিভাবে মাধ্যমিক বিদ্যালয় দরকার।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, পেয়ারপুর ইউনিয়নে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই, এটা সত্যিই দুঃখজনক। এই ইউনিয়নে জরুরিভাবে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ জরুরি। তাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যাপারটি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এনএইচআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *