ইঞ্জেকশন নয়, খাবার মেপেই ৬ মাসে ১৮ কেজি ওজন কমালেন জোজো
ওজন কমানোর জন্য এখন নানা ধরনের ইনজেকশন ও দ্রুত ওজন ঝরানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে গায়িকা জোজোর পথটা ছিল একেবারেই আলাদা। কোনো ওজন কমানোর ইনজেকশন নয়, বরং খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, চিনি বাদ দেওয়া এবং জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে ছয় মাসে ১৮ কেজি ওজন কমিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজের বদলে যাওয়া চেহারার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন জোজো। ছবিটি দেখে অনেকেই অবাক হন। কারণ, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তাঁর চেহারায় এসেছে বেশ বড় পরিবর্তন।
তবে জোজো জানিয়েছেন, শুধুই সৌন্দর্য বা দ্রুত রোগা হওয়ার জন্য এই পরিবর্তন আনেননি তিনি। সম্প্রতি তাঁর হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকতে হবে—এ কথা মাথায় রেখেই আগেভাগে ওজন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
জোজোর ভাষ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর থেকেই খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমাতে শুরু করেন তিনি। এরপর ফেব্রুয়ারি থেকে আরও নিয়ম মেনে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনেন। তবে কোনোভাবেই ক্র্যাশ ডায়েটের পথে হাঁটেননি। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে শরীরের প্রয়োজন বুঝে ধীরে ধীরে খাবারের পরিমাণ ও ধরন পরিবর্তন করেছেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় কম শারীরিক সক্রিয়তার মধ্যেও যেন ওজন অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা যায়।
ইঞ্জেকশন নয়, খাবারের পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ
ওজন কমানোর জন্য বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ইনজেকশনের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা থাকলেও জোজো এমন কোনো পদ্ধতি নেননি। তাঁর মতে, শরীর ঠিক রাখতে যতটুকু খাবার প্রয়োজন, তিনি এখন মূলত ততটুকুই খান। ভাত পুরোপুরি বাদ দেননি তিনি। বরং পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। অল্প ভাতের সঙ্গে বাড়িয়েছেন ডাল ও সবজির পরিমাণ। পাশাপাশি নিয়মিত সালাদ রাখছেন খাবারের তালিকায়।
জোজোর দিনের খাবারে কী থাকে?
সকালে ঘুম থেকে উঠে মেথি, জোয়ান ও জিরে পানিতে ফুটিয়ে পান করেন জোজো। এরপর থাকে এক কাপ লিকার চা ও চিনি ছাড়া বিস্কুট।
প্রাতরাশে কখনও সাওয়ারডো পাউরুটির সঙ্গে দুটি ডিম ও সালাদ খান। আবার কখনও পরিমাণমতো চিঁড়ের পোলাও ও পাকা পেঁপে থাকে তাঁর মেনুতে।
দুপুরের খাবারে অল্প পরিমাণ ভাতের সঙ্গে বেশি করে ডাল, সবজি এবং মাছ বা মাংস রাখেন। বিকেলে একটি ফল খান। কিছুক্ষণ পর শুকনো মুড়ি বা মাখানা থাকে তাঁর খাবারের তালিকায়।
রাতের খাবারে থাকে হালকা খাবার—সুপের সঙ্গে অল্প তেলে রান্না করা সবজি অথবা গ্রিলড চিকেন।

রাতের খাবারে কার্বোহাইড্রেট নয়
ওজন কমানোর পাশাপাশি জোজো তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাপনেও কিছু পরিবর্তন এনেছেন। রাতের খাবারে ভারী খাবার কিংবা কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলেন তিনি। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই রাতের খাবার শেষ করে ফেলেন। এরপর রাত ৯টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন এবং সকালে প্রায় ৫টায় ঘুম থেকে ওঠেন। সন্ধ্যার খাবারের পর পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাশতা করেন। ফলে দুই বেলার খাবারের মধ্যে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার বিরতি থাকে।
চিনি ও মিষ্টিও প্রায় পুরোপুরি বাদ দিয়েছেন খাদ্যতালিকা থেকে।
তবে ডায়েট মানেই যে পছন্দের সব খাবার জীবন থেকে বাদ দিতে হবে—এমনটা মনে করেন না জোজো। মাঝেমধ্যে ইচ্ছা হলে শিঙাড়া, বিরিয়ানি কিংবা চাইনিজ খাবার খান। রবিবার বাড়িতে ছেলের জন্য লুচি তৈরি হলে কখনও কখনও দুটো লুচিও খান। তবে নিয়মিত নয়, পরিমাণের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। চকোলেট বা ভাজাভুজির প্রতি তাঁর তেমন আগ্রহ না থাকায় সেগুলো এড়িয়ে চলা তাঁর জন্য কঠিনও নয়।
ডায়েটের বাইরে কিছু খেতে ইচ্ছা করলে বেশি পানি পান করেন বলেও জানিয়েছেন জোজো।
ফিজিওথেরাপির পাশাপাশি শরীরচর্চা
হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের পর বর্তমানে ফিজিওথেরাপি চলছে জোজোর। চিকিৎসা ও প্রশিক্ষকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিসরে নিয়মিত শারীরিক অনুশীলনও করছেন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন গায়িকা।
বাঙালির খাবারে ভাতের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে জোজো জানিয়েছেন, তাঁর পক্ষে ভাত একেবারে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই খাবার বন্ধ না করে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
তাঁর মতে, দীর্ঘদিন কোনো খাবার পুরোপুরি বাদ দিলে অনেক সময় উল্টো সেই খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যেতে পারে। তাই মাঝেমধ্যে পছন্দের খাবার খাওয়া যেতে পারে, তবে পরিমাণটা অবশ্যই বুঝে।
একই সঙ্গে জোজো সতর্ক করেছেন অন্যের ডায়েট হুবহু অনুসরণ না করতে। তাঁর শরীরে যে খাদ্যাভ্যাস কাজ করেছে, অন্য কারও ক্ষেত্রেও একই ফল দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনা শুরু করার আগে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
জোজোর ১৮ কেজি ওজন কমানোর গল্পের মূল কথা তাই দ্রুত ফল পাওয়ার চেষ্টা নয়—খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত জীবনযাপন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা।
বাপ্পি/সা.এ
