‘তোমারে পায়ে ধরি, আমার দেবাশীষরে আনি দেও’


‘‘তোমারে পায়ে ধরি, আমার দেবাশীষরে আনি দেও। সব তো নিয়ে নিলে ঠাকুর! আমার বুক খালি করে চলে গেল রে…। আমি কী করে থাকবো বাবা? আমার আর কেউ থাকলো না রে বাবা…।’’ বিলাপ করে কথাগুলো বলছিলেন কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মা স্বপ্না দত্ত।

নিহত এই সাংবাদিকের বাসায় এখন শোকের মাতম। সেই শোক ছড়িয়ে পড়েছে মহল্লার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। তারা আসছেন, সান্ত্বনা দিচ্ছেন। কিন্তু কোনো সান্ত্বনাতেই প্রবোধ মানছে না মায়ের মন। বিশেষ করে বাড়ির প্রতিটি কোণায়  দেবাশীষ, তার স্ত্রী এবং শিশু সন্তান শর্ণশীষ দত্তের স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে। সে কথা স্মরণ করে অঝরে কাঁদছেন নিহতের স্বজনেরা। নিহত এই দম্পতির কন্যা পাখি (৮) এখনও বুঝে উঠতে পারেনি তার জীবনের সবচেয়ে নির্মম এই ঘটনা। বাবা-মা আর কখনো ফিরবে না। ছোট ভাই শর্ণশীষের সঙ্গে সে আর কখনও খেলায় মেতে উঠতে পারবে না এই অনুভূতি এখনো স্পর্শ করেনি অবুঝ শিশুকে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত বলেন,  আগস্টের ৩ তারিখ আমার ছেলে ইন্ডিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কলকাতা থেকে ৪ আগস্ট ছেলে ও স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে আমার ছেলে বেঙ্গালুরু পৌঁছায়। সেখানে বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট পরিবারসহ  কলকাতা ফেরেন দেবাশীষ। কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে তারা উঠেছিল। ১৯ আগস্ট তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল নির্মম এই ঘটনা। 

তিনি বলেন, দিনের শুরুতে আমরা বিষয়টি জানতাম না। পরে এক সাংবাদিক এসে আমার কাছে জানতে চায়- কাকা কিছু জানেন নাকি? সে বারবার ফোন দেখছিল। আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছিল না। পরে আমি জোর করলে, সে আমাকে দেবাশীষের ছবি দেখায়। তারপরে আমরা বিষয়টি জানতে পারি।

দেবাশীষ ছিলেন এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার এমন মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পরিবার। ‘‘দেশে ফিরে দুই দিন আগে স্ট্রোক করা মাকে নিয়ে রাজশাহীতে ডাক্তার দেখানোর কথা। ওই আমাদের পরিবারের উপার্জনের একমাত্র মানুষ। আমরা এখন কীভাবে চলবো?’’ কথাগুলো বলতে বলতে ডুকরে কেঁদে ওঠেন দিলীপ দত্ত। 

বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফশানা শিম্মিন (২৫), তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪) নিহত হন। নিহতদের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায়।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *