ভালো কাজে পরস্পর সহযোগিতা | প্রথম আলো


সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অপরকে সাহায্য করা আল্লাহর নির্দেশ। মুসলিমরা যখন এতে সহযোগিতা করে, তখন তারা আসলে আল্লাহর হুকুম মেনে চলে আর রাসুলের আনুগত্য করে।

এই সহযোগিতার মাধ্যমে এমন সব লক্ষ্য ও প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, যা একা করতে গেলে না–ও পারতে পারে। দায়িত্বও বহু মানুষের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। আর এর মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যে ভালোবাসা ও একতা বৃদ্ধি পায়, একে অপরের শক্তি হয়ে ওঠে।

মুমিনদের মধ্যে এই সহযোগিতা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে নবী-রাসুলরা পর্যন্ত আল্লাহর কাছে সহায়ক চেয়েছেন। মুসা (আ.) বলেছিলেন, ‘আমার ভাই হারুন আমার চেয়ে স্পষ্টভাষী, তাকে আমার সহায়করূপে পাঠান, যে আমাকে সত্যায়ন করবে।’ (সুরা কাসাস, আয়াত: ৩৪)

আল্লাহ তাঁর এই প্রার্থনা কবুল করে বলেন, ‘আমি তোমার ভাইয়ের মাধ্যমে তোমার শক্তি বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা কাসাস, আয়াত: ৩৫)

ইসা ইবনু মারিয়াম (আ.) হাওয়ারিদের বলেছিলেন, ‘আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে।’ (সুরা সাফ, আয়াত: ১৪)।

ইবনে কাসির ব্যাখ্যা করেন যে এর অর্থ, কে আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে আমাকে সহযোগিতা করবে (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২/৮৫)

নবীজি (সা.) যখন উকাজ ও মাজান্নার মেলায় এবং মিনায় হজের মৌসুমে গোত্রে গোত্রে গিয়ে বলতেন, ‘কে আমাকে আশ্রয় দেবে? কে আমাকে সাহায্য করবে, যাতে আমি আমার রবের বার্তা পৌঁছে দিতে পারি? তার জন্য জান্নাত রয়েছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৯২৫)

এই আশ্রয়দানও ছিল নেকি আর তাকওয়ায় সহযোগিতার একটি রূপ। আর এই সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন আনসাররা, যাঁরা নবীজিকে সবচেয়ে বড় সহায়তা দিয়েছিলেন এবং শারীরিক, আর্থিক—সব দিক থেকেই তাঁর নির্দেশ মেনে চলেছিলেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *