যৌন নির্যাতনের ট্রমা থেকে মাদকের ওভারডোজ, সব বাধা পেরিয়েছেন ৫০০ কোটি টাকার মালিক এই গায়িকা
২০০৮ সালে প্রকাশিত হয় ডেমির প্রথম অ্যালবাম ‘ডোন্ট ফরগেট’। বিলবোর্ড ২০০–তে অ্যালবামটির অভিষেক হয় দ্বিতীয় স্থানে। পরের বছর ‘হিয়ার উই গো এগেইন’ দিয়ে প্রথমবার অ্যালবাম চার্টের শীর্ষে ওঠেন তিনি।
সেই সময়ের ডেমি ছিলেন কিশোর–কিশোরীদের কাছে আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। কিন্তু একই সময়ে তাঁর ব্যক্তিজীবনে চলছিল অন্য রকম যুদ্ধ।
১৫ বছর বয়সে যে আঘাত
ডেমি ২০২১ সালের তথ্যচিত্র ‘ডেমি লোভাটো: ড্যান্সিং উইথ দ্য ডেভিল’–এ জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতাগুলোর একটি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, ১৫ বছর বয়সে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ওই ব্যক্তিকে জানিয়েছিলেন যে তিনি যৌন সম্পর্কে যেতে প্রস্তুত নন। পরে ঘটনাটি ঘটে। আরও বেদনাদায়ক বিষয়, ডেমির দাবি ছিল, ঘটনার কথা জানানোর পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি শাস্তি পাননি এবং একই বিনোদনজগতের পরিসরে কাজ করতে থাকেন।
এই অভিজ্ঞতা ডেমির মানসিক অবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তী সময়ে নিজের শরীর, খাবার ও আত্মপরিচয় নিয়ে তাঁর নানা সংকটের কথাও সামনে আসে। কৈশোরেই তিনি আত্মক্ষতের অভ্যাস ও খাদ্যাভ্যাসের সমস্যার সঙ্গে লড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
একজন কিশোরী যখন তারকাখ্যাতির চাপে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছেন, তখন ব্যক্তিগত এই আঘাতগুলো তাঁকে আরও ভেতরে ঠেলে দেয়।
‘স্কাইস্ক্র্যাপার’ থেকে নিজের গল্প বলা
২০১১ সালের ‘আনব্রোকেন’ অ্যালবামের ‘স্কাইস্ক্র্যাপার’ গানটি ডেমির ক্যারিয়ারে বিশেষ মোড় এনে দেয়। গানটি শুধু জনপ্রিয় হয়নি; বরং তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রামের সঙ্গে মিশে শ্রোতাদের কাছে একধরনের প্রতিরোধের গান হয়ে ওঠে। গানটি তাঁর প্রথম টপ–১০ হিট।
এরপর ‘ডেমি’, ‘কনফিডেন্ট’ ও ‘টেল মি ইউ লাভ মি’—প্রতিটি অ্যালবাম লোভাটোরকে আরও বড় তারকা করে তোলে। ‘হার্ট অ্যাটাক’, ‘কুল ফর দ্য সামার’, ‘কনফিডেন্ট’ ও ‘সরি নট সরি’র মতো গান তাঁকে ডিজনি তারকা পরিচয়ের বাইরে নিয়ে যায়।
২০১২ ও ২০১৩ সালে ‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর’–এর বিচারক হিসেবেও দেখা যায় লোভাটোরকে। সংগীতের পাশাপাশি টেলিভিশন ও অভিনয়ে নিজের জায়গা ধরে রাখেন তিনি।
