রাষ্ট্রপতিকে ভারত, পাকিস্তান ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের অভিনন্দন


বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড। পৃথক অভিনন্দন বার্তায় দেশগুলো বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এক অভিনন্দন বার্তায় মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুলকে আন্তরিক অভিনন্দন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় সফল ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্যাগের অভিন্ন ইতিহাস, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধন ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে একটি অনন্য সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, যুব, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশাও জানান তিনি।

মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিনন্দন বার্তায় জারদারি আশা প্রকাশ করেছেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে এবং জনগণের কল্যাণে আরও সাফল্য অর্জন করবে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেন, অভিন্ন ইতিহাস এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কে সাম্প্রতিক ইতিবাচক অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন জারদারি। সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের জন্যও তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান।

চীনের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও জোরদারের প্রত্যাশা
চীনের পক্ষ থেকেও মির্জা ফখরুলকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, চীন সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে। নতুন যুগে দুই দেশের জন্য আরও সমৃদ্ধ অংশীদারত্বের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চীন প্রস্তুত। এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণই আরও বেশি সুফল পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের শুভেচ্ছা
বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাজ্য দূতাবাসও মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে। এক বার্তায় তারা জানায়, দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাজ্য আগ্রহী।

ফ্রান্স দূতাবাসের পক্ষ থেকেও নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বার্তায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একজন প্রবীণ রাজনীতিক হিসেবে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রতি সম্মান জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স।

অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের পক্ষ থেকেও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশটি।

নতুন রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের এই অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গভীর করার প্রত্যাশাই উঠে এসেছে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *