ইসলামের নামে উগ্রবাদ সুন্নি মুসলমানরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে: পীর সাবির শাহ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা পীর সাবির শাহ বলেছেন, “উগ্রবাদ, সন্ত্রাস, অবিচার ও অন্যায় থেকে মানবসমাজকে মুক্ত করার জন্য মহান আল্লাহ ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করেছেন। ইসলামের নামে যেকোনো ধরনের উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস সুফিবাদী সুন্নি মুসলমানরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।”
রবিবার (২৩ আগস্ট) আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, ঢাকা শাখার ব্যবস্থাপনায় এবং গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, ঢাকার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত জুলুস পরবর্তী মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
পীর সাবির শাহ বলেন, “বিশ্বব্যাপী ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদকে নিশ্চিহ্ন করে শান্তি প্রতিষ্ঠাই রাসুলুল্লাহর (সা.) আদর্শ। সমগ্র সৃষ্টির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ নিয়ামত ও রহমত হিসেবে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন। যিনি জাহেলিয়াতকে (মুর্খতা), অন্ধকার যুগকে আলোকিত যুগে পরিণত করেছেন। আল্লাহর এই মহান নিয়ামত লাভের জন্য আনন্দ প্রকাশ করা আল্লাহরই নির্দেশ।”
“আল্লাহর প্রিয় নবী পৃথিবীর বুকে শুভাগমনের ফলে বর্বর জাতিকে সভ্য জাতিতে পরিণত করেছেন। অবহেলিত নারী সম্মানিত হয়েছে, অধঃপতিত মানবজাতি অধিকার ফিরে পেয়েছে। যে নবীর আগমনে পৃথিবী আলোকিত হয়েছে সে নবীর আগমনে আনন্দ উদযাপন করা কোরআনের শিক্ষা। তাই, জশনে জুলুস শুধু উৎসবই নয়, এটা নবীপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ,” যোগ করেন সাবির শাহ।
সকালে পীর সাবি শাহের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে জুলুসটি শুরু হয়। এটি তাজমহল রোড, কৃষি মার্কেট, রিং রোড, শিয়া মসজিদ, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মিরপুর রোড, আসাদ গেট ও কলেজ গেট হয়ে জুলুসটি শ্যামলী ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কলেমা ও ইসলামী বাণীসংবলিত বিভিন্ন রঙের ব্যানার ও পোস্টার। এ সময় ‘নারায়ে তাকবির’ ও ‘নারায়ে রিসালাত’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অংশগ্রহণকারীরা হামদে ইলাহী, নাতে রাসুল ও গজল পরিবেশন করেন। বর্ণাঢ্য জুলুসকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
জুলুস শেষে শ্যামলী ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও মাহফিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পীর সাবির শাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসিম শাহ ও সৈয়দ আকিব আহমদ শাহ।
মাহফিলে ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আল-আযহারীসহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম। মাহফিল পরিচালনা করেন মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক।
অনুষ্ঠানে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস এম গিয়াসউদ্দিন শাকের, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার মহিউদ্দিন খোকন, ঢাকা আনজুমানের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, জয়েন্ট সেক্রেটারি আবদুল মালেক বুলবুল, এস এম গোলাম কিবরিয়া, সোয়েবুজ্জামান চৌধুরী তুহিন, হযরত আলী, আবুল কাশেম, গাউসিয়া কমিটি ঢাকার সেক্রেটারি মোহাম্মদ কাশেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
