ধর্ষণে ১১ বছরের শিশুর গর্ভে জন্ম নিল কন্যাসন্তান, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল জৈবিক বাবার পরিচয়
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের এক শিশুর গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তানের জৈবিক বাবা অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর—ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
সোমবার নেত্রকোণা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নুরুল কবীর রুবেল বলেন, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিলের আগে তার মতামত নিতে এলে তিনি ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির পরীক্ষার প্রতিবেদনটি দেখেন।
তিনি বলেন, “প্রতিবেদনে ১১ বছরের শিশুটির সন্তানের ও আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের ডিএনএ প্রোফাইল মিলেছে। অর্থাৎ ১১ বছরের শিশুটির কন্যাসন্তানের জৈবিক বাবা আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর এটা প্রমাণিত হয়েছে।”
রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, “মঙ্গল-বুধবারের মধ্যে আদালতে ডিএনএ প্রোফাইলের প্রতিবেদনসহ অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। আশা করছি, অভিযোগপত্র দাখিলের ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।”
মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করে চিকিৎসক শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। পরে ২৩ এপ্রিল তার মা বাদী হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এরপর ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন সাগর। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।
নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই আদালতে আবেদন করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের ওই সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
