সূত্রাপুরে অস্ত্র উদ্ধার মামলায় আইনজীবীসহ ৪ জন রিমান্ড


 

ঢাকার সূত্রাপুরে একটি দোকান থেকে দুটি দেশীয় তৈরি পাইপগান ও দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধারের মামলায় আইনজীবীসহ চারজনকে দুদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। অস্ত্রগুলো কীভাবে, কোথা থেকে এবং কী উদ্দেশে সেখানে নেওয়া হয়েছিল—তা জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে নেওয়া চার আসামি হলেন—আইনজীবী জাকি উল্লাহ বাহার (৫৮), মো. আনোয়ারুল হক (৬২), জাকির হোসেন (৪৮) ও হিরু বড়ুয়া (৩৬)।

এদিন চার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সূত্রাপুর থানার এসআই মো. রাসেল মোল্লা। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অস্ত্রের উৎস, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে সূত্রাপুরের নর্থব্রুক হল রোডের নাজিম উদ্দিন বারো ভূঁইয়া মার্কেটের ভূঁইয়া মোটরসে অভিযান চালায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, এসময় তুরাগ থানার একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জাকি উল্লাহ বাহারসহ ৮-৯ জন সেখানে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে থাকা দুজনের হাতে দুটি শপিং ব্যাগ ছিল।

পুলিশ সদস্যরা ব্যাগে কী আছে জানতে চাইলে ওই দুজন ব্যাগ দুটি দোকানে রেখে দ্রুত চলে যান। পরে পুলিশ ব্যাগ তল্লাশি করে দেশীয় তৈরি দুটি পাইপগান ও দুটি ১২ বোরের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংবলিত একটি ৬৪ জিবি পেনড্রাইভ এবং গ্রেফতার ব্যক্তিদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, আসামিরা নাজিম উদ্দিন বারো ভূঁইয়া মার্কেট ও ভূঁইয়া মোটরসের মালিক হাফিজ উল্লাহ ভূঁইয়ার মার্কেট ও দোকানের মালামাল আত্মসাৎ করে লাভবান হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

এর অংশ হিসেবে হাফিজ উল্লাহ ভূঁইয়াকে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় ফাঁসাতে দোকানে অস্ত্র ও গুলি রাখা হয়েছিল বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে একটি সাদা রঙের পাজেরো গাড়িতে করে অস্ত্র ও কার্তুজ ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, অস্ত্রের উৎস এবং পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গ্রেফতার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট সূত্রাপুর থানার এসআই ওসমান বাদী হয়ে চারজনকে এজাহারভুক্ত করে মামলা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল মোল্লা বলেন, আদালত চার আসামির দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এমডিএএ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *