শেষ মেসেজের (খুদে বার্তা) পর শুভশ্রী ও রীনার মতো অনেকেরই আর কোনো খোঁজ পায়নি তাঁদের পরিবার।
সুদীপ্তর ধারণা, যখন এই বিপর্যয় ঘটে, তখন তাঁর স্ত্রী হয়তো চীনের ইমিগ্রেশন ভবনের ভেতরে বা এর কাছাকাছি কোথাও ছিলেন। এরপরই যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সুদীপ্ত বলেন, ‘আমি জানতাম তিব্বতের দিকে নেটওয়ার্কের সমস্যা হবে। তাই আমি পরের মেসেজের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’
বেলা তিনটার দিকে সুদীপ্ত সংবাদমাধ্যমে বন্যার খবর দেখতে পান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে শুভশ্রীর দলের অন্য পুণ্যার্থীদের কল দিতে শুরু করেন। কিন্তু কেউ ফোন ধরেননি।
এরপর সুদীপ্ত ট্যুর অপারেটর এবং দলের সঙ্গে থাকা দুই ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন; কিন্তু এবারও কেউ সাড়া দেননি। এর পর থেকে পরিবার শুভশ্রীর আর কোনো খোঁজ পায়নি।
সুদীপ্ত প্রশ্ন করেন, ‘তাদের কি উদ্ধার করা হয়েছে? চীনে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, এই দলটিও কি তাদের মধ্যে আছে? আমরা আরও জানতে চাই।’
সুদীপ্তর ধারণা, বন্যা আঘাত হানার আগেই তাঁর স্ত্রী এবং দলের অন্যরা হয়তো চীনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু কারা সীমান্ত পার হতে পেরেছিলেন বা পার হওয়ার পর তাঁদের কী হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি।
শুভশ্রীর স্বামী বলেন, ‘দয়া করে আমাকে চীন সরকারের কাছ থেকে একটা তালিকা এনে দিন। নিখোঁজ, মৃত এবং উদ্ধার হওয়াদের তালিকা। সর্বশেষ অবস্থা আমাদের জানা দরকার।’
এরপর কণ্ঠে প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সেই চরম যন্ত্রণার অনুভূতি। ‘কী আর বলব বলুন? চোখের পাতা এক করতে পারছি না, সারাক্ষণ ফোনের পেছনেই কেটে যাচ্ছে,’ বলেন সুদীপ্ত।
