ইন্দোনেশিয়ায় খাদ্য বিষক্রিয়ায় অসুস্থ ২ হাজার শিক্ষার্থী
গত তিন দিনে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক খাদ্য বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সরকারের বিনামূল্যে স্কুল খাবার কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা খাদ্য খেয়ে তারা অসুস্থ হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে বিবিসি।
একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, সর্বশেষ ঘটনায় মধ্য জাভার রেম্বাং-এর একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে এই খাবার খেয়ে ৭৭৭ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এই খাবারগুলো একটি বহু-বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর অন্যতম প্রধান নীতি এবং এর লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার স্কুলছাত্রছাত্রীদের পুষ্টির মান উন্নত করা।
কিন্তু, একাধিক গণ খাদ্য বিষক্রিয়ার সন্দেহভাজন উৎস হওয়ার পাশাপাশি, এই কর্মসূচিটি দুর্নীতির অভিযোগ এবং এর ব্যয় নিয়ে সমালোচনায়ও জর্জরিত।
বুধবার দুপুরে লাসেমের উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মাকান বেরগিজি গ্রাটিস’ (এমবিজি) কর্মসূচির মাধ্যমে সরবরাহ করা খাবার খাওয়ার পর মোট ৭৫২ জন শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন শিক্ষক খাদ্য বিষক্রিয়ার উপসর্গে ভুগছিলেন।
প্রধান শিক্ষক জুহারতুতিক বিবিসি নিউজ ইন্দোনেশিয়াকে বলেন, “তাদের ডায়রিয়া হয়েছিল এবং তারা পালা করে শৌচাগার ব্যবহার করছিলেন।”
এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী এবং ৯৫ জন কর্মীকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জুহারতুতিক জানান, সরকার চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করবে এবং স্থানীয় খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘দায়িত্ব নিতে’ স্কুলে এসেছিল।
এক স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোতে একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলে এমবিজি-র খাবার খেয়ে ৭৩০ জন অসুস্থ হয়ে পড়ার পর এই সন্দেহজনক প্রাদুর্ভাবের সূত্রপাত হয়।
চলতি সপ্তাহে বিনামূল্যে দেওয়া স্কুলের খাবারের সাথে সম্পর্কিত খাদ্য বিষক্রিয়ার সন্দেহজনক ঘটনায় আরও শত শত মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ সুলাওসির তানা তোরাজার বেশ কয়েকটি স্কুলের শত শত শিক্ষার্থীও রয়েছে।
খাদ্য বিষক্রিয়ার জন্য প্রায়শই অনুপযুক্ত সংরক্ষণ বা ত্রুটিপূর্ণভাবে প্রস্তুত করা খাবার দায়ী। অভিভাবক ও শিক্ষকরা সাংবাদিকদের পিচ্ছিল মুরগির মাংসের পাশাপাশি কাঁচা মনে হওয়া এবং আঁশটে গন্ধযুক্ত খাবারের কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই সন্দেহজনক প্রাদুর্ভাবের কারণ তদন্ত করছে এবং সম্ভাব্য দূষণের জন্য খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
