কথা হোক মন খুলে
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন মানেই শুধু পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ততা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নানা প্রত্যাশা, চাপ, সম্পর্ক, অনিশ্চয়তা ও নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই। অনেক শিক্ষার্থী এসব বিষয় নিয়ে চিন্তিত থাকলেও তা প্রকাশ করতে পারেন না। মানসিক সুস্থতার জন্য তাঁদের প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তাঁরা নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারবেন, নিজের কথা বলতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাবেন।
ড্যাফোডিল বন্ধুসভার উদ্যোগে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনারে বক্তাদের আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। ‘প্রতিটি প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ; কথা হোক মন খুলে’ স্লোগানে ১৩ আগস্ট ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে অর্ধদিনব্যাপী এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা সিটি হাসপাতাল লিমিটেডের সাইকোথেরাপিস্ট ও পরামর্শক মাহমুদা মুহসিনা বুশরা।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন। বর্ডার লাইন পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার, অতিরিক্ত চিন্তা, আবেগ প্রকাশে অসুবিধা, শৈশবের মানসিক আঘাত, মতের অমিল থেকে রাগ এবং আত্মহত্যার চিন্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা আলোচকদের প্রশ্ন করেন।
বর্ডার লাইন পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার নিয়ে মাহমুদা মুহসিনা বুশরা বলেন, ‘মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপিও গুরুত্বপূর্ণ।’ অতিরিক্ত চিন্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত জ্ঞান বা তথ্যের অভাব থেকেও অনেক সময় অতিরিক্ত চিন্তার সৃষ্টি হয়। তাই সমস্যাটি চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।’
এ সময় মাহমুদা মুহসিনা বুশরা শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো এড়িয়ে না গিয়ে প্রথমে সেগুলো চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন। বলেন, ‘সমস্যাগুলো আগে লিখতে হবে। তারপর কোন বিষয়টি আগে সমাধান করা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে ধীরে ধীরে এগোতে হবে। পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে। কারও মতামত পছন্দ না হলে তাৎক্ষণিকভাবে রেগে না গিয়ে নিজের আবেগকে বুঝতে হবে। অনুভূতি দীর্ঘদিন নিজের মধ্যে না রেখে নিরাপদ পরিবেশে তা বিশ্বাসযোগ্য কারও কাছে প্রকাশ করতে হবে।’ বিশেষ করে হাসিমুখের আড়ালে কষ্ট লুকিয়ে না রেখে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শৈশবের মানসিক আঘাতের বিষয়েও আলোচনা হয়। অতীতের কোনো কষ্টকর অভিজ্ঞতা বর্তমান জীবনে প্রভাব ফেললে তা একা বহন না করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন মাহমুদা মুহসিনা বুশরা। বলেন, ‘সবাইকে একে অপরের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। নিজেকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংকটের সময়ে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’
প্রশ্ন, মতামত ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে আয়োজনজুড়ে একটি আন্তরিক পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ায় সেমিনারটি হয়ে ওঠে অংশগ্রহণমূলক ও প্রাণবন্ত। সঞ্চালনা করেন বন্ধু রওশন আক্তার ও রেদওয়ানুল ইসলাম।
এর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল বন্ধুসভার সহসভাপতি ইসরাত হিমা ও সাধারণ সম্পাদক অনীক ভূষণ সাহা। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মুসাভভির সাকির বলেন, ‘ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী কখনো মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক চাপে থাকলে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা সর্বদা তাঁর কথা শুনতে প্রস্তুত।’ ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে ওয়ান টু ওয়ান সেশনেরও আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা
