গণপতির বাড়ির বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে সিদ্ধার্থ: পুলিশ


রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার পর বাসায় সিসি ক্যামেরা থাকার সন্দেহে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন সিদ্ধার্থ। গ্রেপ্তারের পর তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য জানান।

শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টায় দিকে রংপুর শহরের মাছুয়াপাড়ার বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে থানা পুলিশ, সিআইডি পুলিশ ও পিবিআই ঘটনার তদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহ করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে গণপতি চক্রবর্তীর প্রতিবেশী বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২১) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সম্পর্কে মামাত-ফুফাত ভাই। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদের আদালতে নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে দুই তরুণ জবানবন্দি দিয়েছেন।

মুগ্ধ রংপুর নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে সোনার দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করেন।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নিচে নেমে আসেন। তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। এ সময় গণপতি চক্রবর্তীর ছোট ছেলে প্রিয়ম ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসে ছিল। সিদ্ধার্থকে চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পরে বাসায় সিসি ক্যামেরা থাকার সন্দেহে সিদ্ধার্থ পুরনো একটি প্লাস দিয়ে নিচতলায় গিয়ে বৈদ্যুতিক মিটারের তার কেটে দেন। এ সময় শর্টসার্কিট হলে মেইন লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় মুগ্ধ ওপর তলায় ছিলেন বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন সিদ্ধার্থ।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, লাশ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাইরে অনেকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ পুলিশের কাছে ছোটখাটো কিছু বিষয় গোপন করলেও আদালতে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘‘পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া সম্ভব হবে।’’ 

নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানায়, গভীর রাতে গণপতির বাসার ছাদে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ইয়াবা সেবন করছিলেন। বাধা দেওয়ায় গণপতি, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে একে একে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *