গৌরনদীর যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে মুক্তিপণ আদায়, চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার


প্রকাশিত: ২২:৫৬, ১ আগস্ট ২০২৬  
আপডেট: ২৩:০১, ১ আগস্ট ২০২৬


বরিশাল প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

গৌরনদীর যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে মুক্তিপণ আদায়, চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার মানবপাচার চক্রের সদস্য ইলিয়াস ফকির


বরিশালের গৌরনদী উপজেলার এক যুবককে ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি ইলিয়াস ফকিরকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।  তিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার রাঘদী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের আক্কাস ফকিরের ছেলে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বরিশাল র‌্যাব-৮ এবং র‌্যাব-১২’র যৌথ অভিযানে সিরাজগঞ্জ থেকে ইলিয়াস ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।  ওইদিন গভীর রাতে ইলিয়াসকে গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।  শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে তাকে বরিশালের বিশেষ আদালতে পাঠায় পুলিশ।  তার বিরুদ্ধে বরিশাল ও মাদারীপুরে অন্তত ৪টি মানবপাচারের মামলা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা গ্রামের বারেক বেপারীর ছেলে রাসেল বেপারীকে (২৯) ইতালিতে নেওয়ার জন্য চুক্তি হয় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার রাঘদী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের আক্কাস ফকিরের ছেলে ইলিয়াস ফকিরের সাথে।  চুক্তি অনুযায়ী, গত ২৩ নভেম্বর দালাল চক্রের হাতে ২০ লাখ টাকা তুলে দেয় রাসেলের পরিবার।  পরে ২৪ নভেম্বর রাসেলকে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যায় দালাল চক্র।  সেখান থেকে সৌদি আবর, কুয়েত ও মিশর ঘুরে সর্বশেষ লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করা হয় রাসেলকে।

একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতন করে পরিবারের কাছে ভিডিও পাঠিয়ে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা।  কয়েক ধাপে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ও নগদে আরো ২৪ লাখ টাকা চক্রের সদস্যদের কাছে দেওয়ার পর গত ১৬ জুন বিমানে করে রাসেলকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় দালাল চক্র।

ভুক্তভোগী যুবক দেশে এসে ১২ জুলাই বরিশালের মানবপাচার প্রতিরোধ দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে ইলিয়াস ফকিরসহ ১০ জনের নামে মামলা করেন।  শুক্রবার তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার প্রধান আসামি ইলিয়াসকে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য ইলিয়াস ফকিরের বিরুদ্ধে মাদারীপুরেও তিনটি মামলা রয়েছে।  এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেছেন, “গ্রেপ্তার ইলিয়াসকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।  এই মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অন্য মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলে তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।”

ঢাকা/পলাশ/রফিক





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *