চট্টগ্রামে আবাসিক ভবনে হাসপাতাল-স্কুল, পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান


আবাসিক ভবনে হাসপাতাল ও স্কুল পরিচালনা, অনুমোদিত পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ পেয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।

নগরীর যানজট নিরসন ও ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার (৩১ আগস্ট) নগরীর ছয়টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে চউকের একটি প্রতিনিধি দল। দলের নেতৃত্ব দেন চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।

পরিদর্শনকালে এক আবাসিক ভবনে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি চউকের নজরে আসে। এর আগে, প্রতিষ্ঠানটিকে অনুমোদিত নকশা উপস্থাপনের জন্য বলা হলেও পরিদর্শনের সময় কর্তৃপক্ষ নকশা দেখাতে পারেনি। সরেজমিনে হাসপাতালটিতে নির্ধারিত কোনো পার্কিং ব্যবস্থাও পাওয়া যায়নি। তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনের সামনের খালি জায়গাকে রোগী প্রবেশের জন্য পার্কিং হিসেবে দাবি করে।

একটি সুপার মার্কেট পরিদর্শনে দেখা যায়, ভবনের বেজমেন্টে পার্কিং ব্যবস্থা থাকলেও গ্রাউন্ড ফ্লোরে পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গায় মার্কেটটির একটি আউটলেট স্থাপন করা হয়েছে। ফলে, অনুমোদিত পার্কিংয়ের জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের বিষয়টি চউকের নজরে আসে।

অন্যদিকে একটি আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে বলে জানা যায়। পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও চউকের অনুমোদিত নকশা উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার সার্জিস্কোপ, পিস পার্ক ও আরেকটি হাসপাতালেও আকস্মিক পরিদর্শন চালানো হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে চউক।

পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মঙ্গলবারের মধ্যে অনুমোদিত নকশা নিয়ে চউক কার্যালয়ে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পার্কিং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও ঘাটতি নিরসনে এক মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নগরীকে যানজটমুক্ত রাখতে আমাদের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেবার নামে কোনো প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করে পরিচালিত হতে পারে না। আমাদের মূল চাহিদাগুলোর একটি হলো পর্যাপ্ত পার্কিং নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পরিচালিত হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত নকশা, ভবনের ব্যবহার এবং পার্কিং ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে।

এসব ক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এমআরএএইচ/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *