ছায়াটি ভেঙে ফেলা হবে
যাওয়া
পানির ওপর দিয়ে যায় অনেকে, নিচ দিয়ে
কেবল আমি? অর্থাৎ আমার কল্পনা, চিন্তা
ইত্যাদি, যেগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে চলাই রিস্কি
ওপর দিয়ে উড়োজাহাজ, তথা বড় বড় বিষয়
পাখি, তারাও যায়, আর যাদের ডানা আছে…
যান্ত্রিক জৈবিক অথবা আধ্যাত্মিক হয়তো…
যাচ্ছি নিচ দিয়ে, দেখছি এত রংবেরং চাঁদ
মেঘের ওপাশ থেকে এসে, এত প্রজ্বলিত!
সি-বেড, এখানে শোব না, ভেসে যাব…
সন্দেহ করে লোকে, ভেসে গেলে নিন্দাবাদ
এই প্রথম আন্তর্জাতিক মানের এত রোদ,
এই দেশে, অর্থাৎ যে দেশে থাকি প্রধানত,
তলদেশ, বলছে সকলে, ডুবল লোকটা
নিজ দোষে, এত স্বপ্নে মেরুদণ্ড ঠিক থাকে?
কাচের গ্লাস ভাঙার শব্দে কথা বলব টানা
এমন হয় না থামতে হবে কুকুর দৌড়ে এসে
ফুলের সামনে, জিহ্বাই তার পাপড়ি টকটক
মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে কথা, মাছি, গুলি
কফির উষ্ণ আহ্বানে, ঠকঠক বড্ড কাঁপছি
পিত্তরসের গল্প
‘এত খাচ্ছ, ক্যান্মে সামলাবে’ মুখবিবরের
প্রশ্ন এল হজমের নামে, সাময়িক সন্দেহে!
গাজনের গুণে নেশা উপদ্রুত পুরো থালা
নকশার প্রান্তঘেঁষা খাবারে বেছানো জিব
গরম ভাতের ঘন আঠা ফেনের আঙ্গিকে
এতটা উপচানো, তর্কে ভড়কে দিতে এল
লোকটা খুব ধীর পায়ে, অচেনার অর্চনা
হয় নাকি, বরং বিড়ম্বনাই তো দেখা দিল
তার জানার কৌতুকে চারিদিকে দোলা!
সামনে ঝোঁকা, লোভের প্রসঙ্গে তার গলা
প্রতিবাদী: কেন এত ভোজে মজে যেতে
হবে, লালামাখা লোলুপতা জঘন্য নয় কি?
পিত্ত কাটা রসিকতা হালকা নীল অবসাদে
ক্লিনিকের সেই গল্প পুনরায় মনে পড়ে নাকি!
দেহের অন্ত্যভাগ থেকে একাংশ পাচার
সয় নাকি, একটা আস্ত পিণ্ড এভাবে গায়েব?
অঙ্গ হারানো লীলা এত করুণ হতে পারে!
কত যে মধুর শক্ত পুষ্টি উপাচারে, পূর্ত হতো
রসদের এই রাজধানী! তেতো আস্বাদে
পাকাশয় বুঝে পেত ক্ষরণের ন্যায্যতর ভাগ
যার কোনো বিকল্প হয় না
ল্যাপারেস্কোপির মতো গতায়ু ঘটনা ভুলে
‘এত খাও, ক্যাম্নে সামলাবে’, পিত্তরস বিনে?
ছায়াটি ভেঙে ফেলা হবে
নদী, জ্বলন্ত আয়নাভরা ইতিহাস; দগদগে দলিল
এখানে প্রথম মাছ ধরা ভোর: প্রতিসরণঙ্কিত
হরিণের প্রতিচ্ছবি আঁকা এ ছায়া সরকারি
জরিপের বেলা শেষ; এক শ বছরে অনেক সন্ধ্যা
পাতালে তার স্মরণবার্ষিকী। আগুনবাতি সারেসার
এ স্থাপনা শালুক পাতায় নক্ষত্রফলিত: পাখিগাঢ়
মেঘের চিৎকার; সহ্যের সীমা ভাঙা উজ্জ্বলতা
রোদের সাক্ষ্য দেখে পারদযন্ত্রেও যথেষ্ট বিকার!
দস্তাবেজে কারচুপি বহালদস্তুর, সাঁকো বাঁধা
শুরুমুহূর্ত এর চেয়ে খুব বেশি পৃথক ছিল না
ছায়াটিও ভাঙা হবে: ইতিটানা লাল অধ্যাদেশ!
যাত্রাবেলার আগে
কোথায় যেনবা যাব, পাকা চুলে মৃদু শ্লেষমাখা
হাওয়া, স্মৃতি পার করা নৌকায় ফোলা পাল
ইন্ডাস্ট্রি চোয়ানো বীভৎস কিছু পানি, যথা নদী
যেমনটা সকলে বলছে, অতীত ভোলা হরবোলা
যারা: কীই-বা ভেদ, চেনা বা অচেনা!
বকের পালকে আভা; লোকে বলছে বেলা শেষ
মেঘ লেখা গদ্য চালে যেন একটু বিষাদ মাধুরী
না, ঠিক এমনও নয় যে, চুয়ে পড়া অন্ধকারে
রাষ্ট্রযন্ত্র গাদাবন্দুক বেহালা ইত্যাদি
ঢাকা পড়তে পারে। সন্ধ্যা এসে নিজেই টিপ্পনী
কেটে বলে, কিংবা বলবে: অনেকে কেঁদেছে,
এই রাস্তায় কাদা, ঝঞ্ঝা পার করে কোথাও একটা
চায়ের চট্টলা, দেশলাই ঘষা হৃদ্যতা, ক্ষণপ্রভা
কিংবা কোনো রটনা জম্পেশ, সম্পাদকীয়
অথবা তারও চেয়ে সাদামাটা, টকশো-জাতীয়
যাব, বটেই, সাক্ষী হিসেবে কিছু তারকাঁটা
এখানে–ওখানে সেঁটে যাচ্ছি পৃষ্ঠায়, পাতায়
প্রেরণার ধাঁচে, জাতি-তারা, অর্থাৎ তারকারা
যারা ওই চলে যাওয়াদের প্রতীকে ভাস্বর
যাদের আওয়াজে জগৎ শুরু হবে, ভিন্নমাত্রা
এক বাক্যে শেরোপা ধরবে শ্রদ্ধা-অজুহাতে
দুধে চুমুক দিয়েই, একদিকে যাত্রা শুরু
পরিণতি না–দেখানো অস্পষ্ট আয়নায়
যেমন পাকা ফলে মশা, লোভ বা লালসাপুঞ্জ
কিছুই না-দেখে খতিয়ে
সুরের মিষ্টি রেশ ভেজা পাতায় অবিকল জমা
রেখেই যাওয়া: ভাঁজহীন পটের পাঞ্জাবি, অকপট
বাণী বাক্য যতি বা কাঠামো মূলত চলে গেছে
আগেই, উড়ো চঞ্চলতা তার, কিছুটা রয়েছে!
ডেথ সার্টিফিকেট
মৃত্যু একটা হাত, কোথা থেকে বাড়ানো তির্যক
শ্বাসযন্ত্রের মুখে অবরোধ, তর্ক সূত্র ছাপিয়ে
হিম কলস গলা থেকে বলা, পানের আলোচনা
হলদে পাতার পেছনে শোভা, গাছ এবং তার
চির বক আহ্বানে সাদা। বেলা ডোবা ক্ষণলগ্ন
সন্ধিকাল, এত প্রচণ্ড টানে চুম্বকের ছলাকলা
মেঘের তলদেশে, বীজতলা মধুর রঙ্গ বেলাভূমি
কিশোর খেলা বিকেল, সারা মাঠে। নদী-প্রশাসিত
ধান বাংলা ঝনঝন: কৃষিশব্দে অভিধানে ঘ্রাণ
পিঠের স্বাদে হাওয়া—সম্প্রচার এপাড়া-ওপাড়া
বেদনা শিকল বাজা কানের কাছে মুক্তিবাক্য
দুধের থালা স্মৃতি। মনে পড়া শক্ত অপরাধ
লোহা কারখানায় বহাল এই ম্যানেজারি, জারি
রয়েছে নির্লজ্জপনা, কোমলতা ভোলার দাবি
মরণডাঙার কোল থেকে উড়ে অল্পপাথরমাত্র
পারব না, ঘাস-আশ্রয়ী শিশির কলোনি খোলা
দালান পেরিয়ে অল্পদূর অন্ধকার মহাপ্রান্তরে
মধু চাটা ঠোঁটে জঙ্গলের পুষ্টিকর রোদ আছে
চামচের খোলে সমুদ্র ধরার কারসাজি, কবিতা
কিংবা ইত্যাকার অভিসারে ছলনা দোল খাওয়া
কেবল দরকার একটু কূট ভঙ্গিমা, শিল্পলোকে
সরলতাকে শৈল্পিক চালাকি দিয়ে গর্ভবতী করা
এতে কিছু সিদ্ধি জুটবে? ছুরিতে হাত কাটার
কাতর মন্থর প্রকাশে রক্তিম! মৃত্যু, বলো তো কবে
দেখা হবে অঙ্গারের পাশে আগুনাভ পড়ে থাকা?
