জর্ডান-আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা


ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। 

সোমবার (৩১ আগস্ট) ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ‘শাস্তিপ্রদানকারী’ অভিযানের আওতায় জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল আজরাক বিমানঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপেক্ষণ করেছে। 

রবিবার রাতে লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় আইআরজিসি সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহতের প্রতিশোধ হিসেবেই এ পাল্টা পদক্ষেপ বলে দাবি তেহরানের।

এদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রবিবার রাতে তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী অন্তত ৮টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করেছে। অন্যদিকে, আইআরজিসি পৃথক এক বিবৃতিতে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন গুলি করে পারস্য উপসাগরে ফেলে দেওয়ার দাবি করেছে।

লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, “তেহরান যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের মুখে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।”

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন।

তেহরান রবিাবর লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল।  

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে দৃশ্যত ইরানের খারগ দ্বীপে বোমাবর্ষণের চিত্র ফুটে উঠেছে।

ভিডিওটিতে মার্কিন বিমান হামলায় তেল সংরক্ষণাগার ও তেল ট্যাংকার বিস্ফোরণে উড়ে যেতে দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে ট্রাম্প লেখেন, “খারগ দ্বীপ ছাইয়ে পরিণত হচ্ছে! প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।”

তবে খারগ দ্বীপে মার্কিন কোনো হামলা হয়েছে কি না, তার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের মোট তেল রপ্তানির সিংহভাগই পরিচালিত হতো এই খারগ দ্বীপ থেকে, যা দেশটির অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প একাধিকবার খারগ দ্বীপ দখল বা ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে আসছেন।

হুট করে শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াল; তাও এমন এক সময়ে, যখন ওয়াশিংটন তাদের সরাসরি বোমাবর্ষণ থেকে সরে এসে তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ সপ্তম মাসে পা রেখেছে।

সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী রবিবারের হামলাকে কোনো ‘আগ্রাসী পদক্ষেপ’ বলে মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক এক্স পোস্টে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনীকে মাইন বসানো থেকে বিরত রাখতে তারা ‘সীমাবদ্ধ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ নিয়েছিল এবং এ ঘটনার জন্য ইরানকেই দায়ী করেছে।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুর’ হামলায় তাদের বেশ কিছু সেনা হতাহত হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

রবিবারের এই হামলা প্রমাণ করে যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে তাদের নতিস্বীকার করাতে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এখনও সামরিক শক্তি ব্যবহারে প্রস্তুত।

অন্যদিকে, সোমবার ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে এ জাতীয় মার্কিন আক্রমণের কড়া জবাব দিল।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *