ডাকঘর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা, চীনা কোম্পানির বিনিয়োগ প্রস্তাব
বাংলাদেশের ডাকঘর আধুনিকায়নে চীনের একটি কোম্পানি বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। কোম্পানিটি ডাক বিভাগের অবকাঠামো, জনবল ও কার্যালয় ব্যবহার করে বিনিয়োগ করতে চায় বলে জানান তিনি।
রোববার জাতীয় সংসদে ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য দেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
আখতারুজ্জামান জানতে চান, জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ডাকঘরগুলোকে স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্ট, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং কৃষকদের তথ্য ও পরামর্শকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং পাসপোর্টের আবেদনের মতো সরকারি সেবাও ডাকঘরের মাধ্যমে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চান তিনি।
জবাবে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডাকঘরগুলোর ব্যবহার বাড়ানো ও আধুনিক করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, রোববার সকালেই চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে।
কোম্পানিটি নিজস্ব অর্থে বিনিয়োগ করতে চায়। এর বিনিময়ে তারা ডাক বিভাগের বিদ্যমান অবকাঠামো, জনবল ও কার্যালয় ব্যবহার করতে চায়।
এ বিষয়ে কোম্পানিটি সরকারকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সারা দেশে ৯ হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে। বিদেশে যেভাবে ডাকঘর ব্যবহার করা হয়, বাংলাদেশেও সেভাবে এগুলোর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সরকারি সেবা ডাকঘরের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালের ইন্টারনেট বন্ধে ‘বিপুল সংখ্যক উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত’
ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ থেকে ২৩ জুলাই এবং ৫ অগাস্ট সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার বিপুল সংখ্যক উদ্যোক্তা ও নারী কর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
ই-কমার্স, অনলাইন টিকেটিং, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট, অনলাইন ব্যাংকিং এবং মোবাইল আর্থিক সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল বলে জানান তিনি।
বিদেশে অবস্থানরত এক কোটির বেশি বাংলাদেশি ওই সময়ে দেশে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে বলে জানান মন্ত্রী।
তবে ওই সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে কত টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল, সে তথ্য তিনি দেননি।
মৃত ব্যক্তির সিম শনাক্তে সমন্বিত ব্যবস্থা নেই
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মৃত ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত কোনো সিম টানা ১১ মাস ব্যবহার না হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিম তার বৈধ উত্তরাধিকারীরা ব্যবহার করেন।
বর্তমানে কোনো গ্রাহকের মৃত্যুর তথ্যের ভিত্তিতে তার নামে নিবন্ধিত সব সিম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার সমন্বিত ব্যবস্থা নেই বলে জানান তিনি।
মোবাইল ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেই
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
তবে স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষামূলক কাজও করা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষার বিভিন্ন কনটেন্ট ব্যবহার করছে।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের কোনো সিদ্ধান্ত সরকার আপাতত নেয়নি বলে জানান মন্ত্রী।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
