ডেমরায় বোমাসহ গ্রেফতার দুজন রিমান্ডে


রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার ‘দাওলাতুল ইসলামের’ সদস্য দাবি করা দুই ব্যক্তিকে পৃথক মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পর একজনের তিন দিন ও অপরজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মহিন উদ্দিন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতার জুয়েল ভূঁইয়া (২৭) তিন দিন এবং আরিফ চৌধুরীকে (২৪) দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এদিন আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) এসআই মো. রফিকুল ইসলাম দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন। তিনি জুয়েলকে ১০ দিন এবং আরিফকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন।

রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এটিইউ জানতে পারে, ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে অবস্থান করছেন। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে জড়ো হয়েছেন বলে পুলিশের সন্দেহ।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সারুলিয়ার পশ্চিম বক্সনগর নিঝুমবাগ এলাকার গরিবের নেওয়াজ মসজিদ রোডের একটি চায়ের দোকানের সামনে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে জুয়েল ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আরিফ পালানোর চেষ্টা করলে কয়েক গজ দূরে গিয়ে তাকেও আটক করা হয় বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি তাজা ডেটোনেটর বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে জননিরাপত্তার ঝুঁকির কথা বিবেচনায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করে।

এ ঘটনায় এটিইউর উপপরিদর্শক পলাশ আলী বাদী হয়ে ডেমরা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজন নিজেদের ‘দাওলাতুল ইসলামের’ সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। সংগঠনটির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করা, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ছিল তাদের—এমন তথ্যও প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য জানতে দুই আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
 
এমডিএএ/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *