নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও আপত্তিকর ক্যাপশনে প্রচার, আটকের পর মুচলেকায় মুক্তি


অনুমতি ছাড়া গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণ এবং আপত্তিকর ক্যাপশন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগে ফিরোজ কবির (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে নিজের ভুল স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দেওয়ায় তাকে স্ত্রীর জিম্মায় ছেড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলার নবীনগরের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহসভাপতিসহ (ভিপি) শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ফিরোজ কবিরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন।

ফিরোজ কবির ঢাকার ধামরাই উপজেলার বড় ইকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবু সাইদের ছেলে। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন নিরিবিলি এলাকায় বসবাস করেন এবং গ্লোবাল অ্যাটায়ার লিমিটেডে কর্মরত।

সম্প্রতি ‘এফকে মিডিয়া’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধারণ করা নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভিডিও আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর ক্যাপশনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওগুলো শিক্ষার্থীদের নজরে এলে তারা বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্যদের জানান। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে এসে প্রক্টোরিয়াল বডিকে অবহিত করেন।

প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে থাকা ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পান। তাদের ভাষ্য, ভিডিওগুলোর বিষয়বস্তুতে অশ্লীলতা না থাকলেও ব্যবহৃত ক্যাপশনগুলো আপত্তিকর ছিল।

পরে অভিযুক্তের স্ত্রী আফরিন (২৪) বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে তাকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি জানান, স্বামীর এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি আগে জানতেন না। ফিরোজ কবির নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না—মর্মে লিখিত মুচলেকা দেন। পরে তার স্ত্রীর জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, “শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট দেখি। পোস্টে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি আপত্তিকর ক্যাপশন দিয়ে ফেসবুকের পেজে প্রকাশ করা হয়েছিলো। বিষয়টি অবগত হয়ে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসি এবং প্রক্টোরিয়াল বডিকে অবহিত করি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্য কওছার আহমেদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি ফিরোজ কবির নামক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডি আছে এফকে মিডিয়া নামে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ভিডিও করে অশ্লীল ক্যাপশন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে। শিক্ষার্থীরা ভিডিওগুলো দেখে এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে আমরা এসে সত্যতা পাই। এরই প্রেক্ষিতে তার স্ত্রীকে বিষয়টি অবগত করে মুচলেকা নিয়ে তার স্ত্রীর জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।”





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *