নেপালে ফের বাড়ছে ভোটকোশী নদীর পানি, ঝুঁকিতে ৪ জেলা


নেপালে কয়েক দিন আগের বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যার ক্ষত না শুকাতেই রবিবার (৩০ আগস্ট) সীমান্ত সংলগ্ন ভোটকোশী নদীর পানি নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় নেপাল কর্তৃপক্ষ বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে নিয়োজিত তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। 

হিমালয় সীমান্ত অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত এই ভোটকোশী নদী গত বুধবারের আকস্মিক বন্যায় বিপুল পরিমাণ পানি, দাকা ও ধ্বংসাবশেষ বয়ে নিয়ে এসে মধ্য নেপালে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। 

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) এক বিবৃতিতে জানায়, “বন্যাদুর্গত ভোটকোশী নদীতে পানির স্তর আবারও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সকলকে জরুরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হচ্ছে।” বিশেষ করে রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান জেলায় উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সদস্য এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মর্মান্তিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন মানুষ। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির মধ্যেই উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ১৫ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী। আটকা পড়া মানুষদের আকাশপথে উদ্ধার এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে নিরবচ্ছিন্ন হেলিকপ্টার ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

বন্যার প্রবল স্রোতে ভোটকোশী ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার রাস্তাঘাট, সেতু, লোকালয় এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলছে, শনিবার গভীর রাতের পর থেকে সারা রাত ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় নেপালি নিরাপত্তা বাহিনী ভারতীয় টানেল বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ চিহ্নিত করে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে ভারতীয় টানেল বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিচ্ছে নেপালী সেনাবাহিনী। ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে গভীর রাতেও সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুঁজে বের করে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়।

এনডিআরআরএমএ-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যায় আহত  ২৪২ জনকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতাল, বীর হাসপাতাল এবং রসুয়া জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩৫ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন এবং ৭৫ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয় অঞ্চলে হঠাৎ বরফ ও পাহাড় ধসের কারণেই এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। নদীর পানির সাথে নেমে আসা বিশাল কাদার স্রোত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলার পুরো শহর ও গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: দ্য ট্রিবিউন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *