নোয়াখালীতে পর্নো চক্রের ৫ জন গ্রেপ্তার, ৪ তরুণী উদ্ধার


নোয়াখালীতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জিম্মি করা তরুণীদের দিয়ে জোরপূর্বক পর্নো ভিডিও তৈরির অভিযোগে একই পরিবাারের চারজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকার রাবেয়া হাসপাতালের পাশের একটি আবাসিক ভবনে দিবাগত রাতে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় জিম্মিদশা থেকে চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, তাদের দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং সহযোগী আব্দুর রহিম। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ জানায়, জিম্মি থাকা তরুণীদের মধ্যে একজন কৌশলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণের ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি চাবুক, ছুরি, কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া এক তরুণী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। 

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, এক বান্ধবীর মাধ্যমে সালাউদ্দিন বিপ্লবের সঙ্গে পরিচয়ের পর পার্লারে চাকরির আশ্বাসে গত ২ আগস্ট চৌমুহনীতে আসেন। পরে তাকে একটি বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক যৌন কাজ ও পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করা হয়। 

অভিযোগে আরো বলা হয়, এসব ভিডিও অনলাইনের একটি অ্যাপের মাধ্যমে প্রচার করে অর্থ উপার্জন করা হতো।বাসায় জিম্মি থাকা অন্য তরুণীদেরও একইভাবে দীর্ঘদিন আটকে রেখে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো এবং প্রতিবাদ করলে শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত)  মো. হাবীবুর  রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীদের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *