প্রিন্সেস ডায়ানার জীবন নিয়ে বই লিখছেন ভাই চার্লস স্পেন্সার
প্রয়াত ব্রিটিশ রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়ানার জীবন নিয়ে বই লিখছেন তার ভাই চার্লস স্পেন্সার। ডায়ানার মৃত্যুর ৩০ বছর পূর্তির আগে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে বইটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
‘সোয়ান সং : ডায়ানা, মাই সিস্টার’ নামের বইটি আগামী মাসে যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হবে। পরে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বইটি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাইকেল জোসেফ, যা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের একটি প্রতিষ্ঠান।
বইটিতে ডায়ানার জীবন, ব্যক্তিগত স্মৃতি ও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন চার্লস স্পেন্সার।
তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে ডায়ানাকে নিয়ে অনেক ভুল তথ্য মানুষের কাছে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এবার নিজের স্মৃতি থেকেই বোনের জীবনের গল্প বলতে চান তিনি।
এক বিবৃতিতে স্পেন্সার জানান, ডায়ানাকে নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার অনুরোধ তিনি বারবার পাচ্ছেন। এসবের কারণে নিজের চিন্তা ও স্মৃতিগুলো একবারের জন্য লিখে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদের এমন কিছু মতামত পড়তে তার অস্বস্তি হয়, যেগুলোর অনেকগুলো তার মতে সত্য নয়।
১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিয়ের পর বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন ডায়ানা। রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে খুব দ্রুতই তিনি মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। একসময় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা নারীদের একজন ছিলেন তিনি।
তবে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তার দাম্পত্যজীবনে পরে নানা সমস্যা দেখা দেয়।
দীর্ঘ টানাপড়েনের পর ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
১৯৯৭ সালের আগস্টে প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৬ বছর বয়সে মারা যান ডায়ানা। তার মৃত্যুর পরও বিশ্বজুড়ে তাকে নিয়ে আগ্রহ কমেনি। তার জীবন, রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত নানা ঘটনা নিয়ে এখনো আলোচনা হয়।
ডায়ানার শেষকৃত্যে ভাই চার্লস স্পেন্সার দেওয়া বক্তব্যও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। সেই বক্তব্যে তিনি রাজপরিবারের সমালোচনা করেছিলেন এবং বোনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
নতুন বইয়েও ডায়ানার হয়ে কথা বলার লক্ষ্য স্পেন্সারের। তিনি জানিয়েছেন, বোনের জীবন সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সত্য তুলে ধরতে চান।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের প্রকাশনা পরিচালক ড্যানিয়েল বানইয়ার্ড বইটিকে ‘ঐতিহাসিক গুরুত্বের’ একটি কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য ডায়ানার জীবন নিয়ে অসংখ্য বই ও তথ্যচিত্র প্রকাশিত হলেও এবার তাঁর নিজের ভাইয়ের স্মৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গিতে লেখা বইটি নতুন করে পাঠকদের আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি
