প্রিয় চৈতি | বন্ধুসভা
প্রিয় চৈতি,
জ্বর সেরেছে তোমার? আজ তৃতীয় দিন পার হয়েছে। ভাইরাসজনিত জ্বর নাকি তিন দিন থাকেই। সেরেছে হয়তো। গভীর রাত, দূরালাপনীর সুযোগ সীমিত এখন। যোগাযোগের ভার্চ্যুয়াল অ্যাপগুলো ঘুমাক আপাতত। তোমাকে একটা চিঠিই লিখি।
এটা কিন্তু চিরকুট নয়। চিঠি। তোমার প্রিয় চিঠি। সেই আবেগভরা খামে নেই হয়তো। কিন্তু এটি আমিই লিখছি তোমাকে।
তোমার গতকালের বলা কথাগুলো ভাবলেই মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে। তুমি ঠিকই বলেছ—ধর্ম এখন মগজে বিভাজনতত্ত্বের বীজ বুনে দিচ্ছে। মানবচিন্তারও নিয়ন্ত্রণ করছে। এখনকার প্রজন্মে নাকি মুসলিম-সনাতন বন্ধুত্ব নেই। অথচ আমাদের কথা ভাবো একবার! আমরা ধর্মের আগে বন্ধুত্বটা দেখতে পেতাম। শৈশবের এতটা বছর পেরিয়ে এসে, তোমাকে এই কথাগুলো বলতে হবে আমার, এটাও ছিল অবিশ্বাস্য। আসলে আমরা কোথায় যাচ্ছি?
বিজ্ঞান কতটা এগিয়ে গেল। স্মার্ট অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত রোবট। প্রযুক্তি যেন এক অনন্য উচ্চতায়। পৃথিবীজুড়ে ঝলমল করছে আলো। মোমবাতি অতীত হয়েছে। কেরোসিন ল্যাম্প তারও আগে বিলীন। টর্চের ক্ষীণ আলোয় হেয়ারিংবন্ড সড়কে হাঁটি না আর। অথচ আলো–ঝলমলে এক্সপ্রেসওয়ের শেষ গন্তব্যে গিয়ে আমরা দেখি গাঢ় অন্ধকার। নাহ্! আর পারছি না এসব ভাবতে! কিছুক্ষণ আগে একপশলা বৃষ্টি হয়ে গেল। এখন শান্ত-সুনসান চারপাশ। একটা ডাহুক ডাকছে থেমে থেমে। তবু মস্তিষ্কে বাড়ছে কার্টিসল হরমনের নিঃসরণ। মানসিক চাপ বাড়ছে।
