বন্যায় নিখোঁজদের সন্ধানে ৮ দেশের প্রস্তাব ফেরাল নেপাল
ভয়াবহ বন্যায় কয়েকটি শহর ভেসে যাওয়া সত্ত্বেও নেপাল সরকার জানিয়েছে, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য তাদের কোনো বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।
বিধ্বংসী বন্যায় বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় তারা সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও নেপাল এ অবস্থান নিয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) চীন সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। এতে পুরো শহর মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার পাশাপাশি ধ্বংস হয়েছে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়াসহ বহু বিদেশি নাগরিক। পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যেই একটি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ দুর্যোগ ত্রাণ দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, তারা নিজেরাই উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বিস্তারিত না জানিয়ে বলেন, “সহায়তার প্রস্তাব আসা স্বাভাবিক। আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। আপাতত আমাদের এই ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নেই।”
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নেপাল ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা এখনই বিদেশি উদ্ধারকারী গ্রহণ করার পরিকল্পনা করছে না।
মন্ত্রণালয় আরো জানায়, “দক্ষিণ কোরিয়া এই বিষয়ে নেপালের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিউল আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে ১০ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত তাদের ৯ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১০ জন আটকা পড়েছেন।
চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের শিগাতসে প্রদেশের জিরং কাউন্টিতে ভূমিধসের পর জিরং বন্দরের দিকে যাওয়ার একটি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তায় দমকলকর্মীদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার একটি ড্রোন দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স
‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে কার্যক্রমে সহায়তা করার অনুমতি দেওয়ার জন্য নেপালকে অনুরোধ করেছে।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। জেনেভায় জাতিসংঘের সাবেক নেপালি রাষ্ট্রদূত দিনেশ ভট্টরাই বলেন, “বন্যাদুর্গত রসুয়া জেলাটি চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী। অঞ্চলটির ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখেই হয়তো নেপাল সরকার বিদেশি দল না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
তবে নেপাল সরকার এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানান, চীনের কোনো প্রভাব বা সংবেদনশীলতার কারণে নয়, বরং নেপালের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় পুরোপুরি সক্ষম বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
