বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে ৬৭ হাজার টাকা, বাংলাদেশে কত কমলো?


বছরের শুরুর দিকে টানা ঊর্ধ্বমুখী ছিল সোনার বাজার। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে জানুয়ারির শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম উঠে যায় ৫ হাজার ৫০০ ডলারেরও ওপর। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে অনেকটাই কমে এসেছে সোনার দাম। জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম কমেছে প্রায় ৬৭ হাজার টাকা। একই সময়ে বাংলাদেশের বাজারেও দরপতন হয়েছে সোনার।

বিশ্ববাজারে ২০ শতাংশের বেশি দরপতন

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ইতিহাসে প্রথমবার প্রতি ট্রয় আউন্স ৫ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপার লেনদেন ট্রয় আউন্স হিসেবে হয়। এক ট্রয় আউন্সের ওজন প্রায় ৩১ দশমিক ১০ গ্রাম, যা প্রায় ২ দশমিক ৬৭ ভরির সমান।

সে হিসাবে বছরের শুরুতে বিশ্ববাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম পৌঁছেছিল প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকায়, যা ছিল রেকর্ড।

তবে জুলাইয়ের শেষ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম নেমে আসে ৪ হাজার ৪৪ ডলারে। ফলে প্রতি ভরির দাম কমে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম কমেছে প্রায় ৬৭ হাজার টাকা। শতাংশের হিসাবে এ সময়ে দরপতন হয়েছে ২০ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশে কতটা কমেছে?

বিশ্ববাজারে রেকর্ড দামের দিনই দেশের বাজারেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে সোনার দাম।

গত ২৯ জানুয়ারি সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাফে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে সোনার দামে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়।

এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমতে থাকায় স্থানীয় বাজারেও কিছুটা সমন্বয় করা হয়।

জুলাইয়ের শেষ দিনে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা।

সে হিসাবে গত প্রায় ছয় মাসে দেশের বাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম কমেছে প্রায় ৬৩ হাজার টাকা।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের দামের পার্থক্য কেন?

বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমলেও বাংলাদেশের বাজারে একই হারে কমে না। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে-

  • বৈধ আমদানির তীব্র সংকট: বাংলাদেশে বৈধভাবে সোনা আমদানির পরিমাণ খুবই সীমিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক লাইসেন্স দিলেও বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতায় ব্যাংকিং চ্যানেলে বাণিজ্যিকভাবে সোনা আমদানি প্রায় নেই বললেই চলে।
  • ব্যাগেজ রুলের ওপর নির্ভরশীলতা: দেশের বাজারের বড় অংশের চাহিদা পূরণ হয় ব্যাগেজ রুলে আনা সোনা এবং অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে। ফলে বৈধ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়।

  • উচ্চ শুল্ক, কর ও ভ্যাট: বৈধ আমদানিতে শুল্ক, কর, ভ্যাট এবং গহনা তৈরির ব্যয় যুক্ত হয়। এতে স্থানীয় বাজারে সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি থাকে।
  • বাজুসের নিজস্ব দাম নির্ধারণ: আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) স্থানীয় বাজারে দাম নির্ধারণ করে। তবে চোরাচালান প্রতিরোধ ও স্থানীয় বাজারে ডলারের সংকটের কারণে বাজুস অনেক সময় বিশ্ববাজারের চেয়ে কিছুটা বাড়তি দাম ধরে সমন্বয় করে।
  • ডলারের বিনিময় হার ও বাজারের চাহিদা: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ডলারে নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশে ডলারের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই সোনার দাম বাড়ে। এছাড়া বিয়ের মৌসুমে স্থানীয় চাহিদা বাড়লে সরবরাহ সংকটে দাম আরও বেড়ে যায়।

সূত্র: গোল্ড প্রাইসফোর্বস
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *