বেতন ১৩ গুণ বাড়াতেই বিশ্বকাপ বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ইনফান্তিনো
বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন বিরোধিতার মুখে প্রকল্পটি স্থগিত হওয়ার পর এবার সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বার্ষিক পারিশ্রমিকও নাটকীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারত বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর বার্ষিক মোট পারিশ্রমিক প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২.৬ মিলিয়ন ডলার মূল বেতন এবং ২.২ মিলিয়ন ডলার বোনাস।
তবে ফিফার প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইনফান্তিনো ওই প্রতিষ্ঠানের একজন জেনারেল ম্যানেজারের সমতুল্য নির্বাহী দায়িত্ব পালন করতেন। দ্য টাইমস-এর দাবি, সে ক্ষেত্রে তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারত।
ফিফার পরিকল্পনা ছিল, বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ সংস্থার সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এরপর সেই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবে জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি কার্যকর করতে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টি ভোট এবং ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে ইনফান্তিনো একটি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে প্রতিটি সদস্য দেশের অনুদান বর্তমানের ৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ মিলিয়ন ডলার করা হবে।
ফিফার ভাষ্য ছিল, এই অতিরিক্ত অর্থ বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোতে ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। তবে সমালোচকদের বড় অংশের মতে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের ওপর বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হতো।
ঘোষণার পরপরই ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনক্যাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) একে-একে পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করে। উয়েফা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রস্তাব প্রত্যাহার না হলে তাদের সদস্যদেশগুলো ফিফার টুর্নামেন্ট বর্জনের পথেও হাঁটতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলও প্রকল্পটির বিষয়ে আরও ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছতা দাবি করে।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সকল মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, এই প্রকল্পটি এমন ধরনের বিভেদ তৈরি করেছে যা সমর্থনের মাত্রা নির্বিশেষে, প্রথমত নির্ধারিত লক্ষ্যের আর স্বার্থে নেই। আমাদের উদ্দেশ্য সর্বদা ছিল এবং থাকবে, ঐক্যবদ্ধ (ফুটবলকে) করা এবং উন্নত করা। এই প্রস্তাবটি আর এগোবে না।’
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হওয়া এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত থেমেছে পরিকল্পনা বাতিলের মধ্য দিয়ে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফিফা সভাপতির সম্ভাব্য পারিশ্রমিক বৃদ্ধির তথ্য সামনে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ব ফুটবলের এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের প্রকৃত উপকারভোগী কে হতেন?
