ব্যক্তি সুবিধার জন্য রাজনীতিতে জড়ায় ব্যবসায়ীরা: ফজলুল হক 


দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। এখান থেকেই পরিচালিত হয় ব্যবসার গতিপথ। অর্থনীতি সচল রাখতে করণীয় নির্দেশনাও আসে এখান থেকেই। বর্তমানে সংগঠনটি  প্রশাসক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। সামনেই সংগঠনটির নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে ব্যবসায়ী সমাজের প্রত্যাশার পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ দেশীয় বিনিয়োগে কতটা প্রভাব ফেলছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে করণীয়, নির্বাচন নিয়ে ব্যবসায়ীদের ভাবনা— সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক ফজলুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তুহিন সাইফুল ইসলাম।

রাইজিংবিডি: দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনি একশো বিশ দিনের মধ্যে এফবিসিসিআই-এর নির্বাচনের কথা বলেছেন। আপনার কী মনে হয়—প্রমিজ রক্ষা করা সম্ভব? 

ফজলুল হক: স্টিল পসিবল। এ কারণে বলছি, নির্বাচন শুরু করার একটা সিস্টেম আছে; বাধা বলব না, এটা প্রক্রিয়ার একটা অংশ। ধরুন এফবিসিসিআই-এর জন্য কারা ভোটার হতে পারবে, ইলেকশন কি ডাইরেক্ট হবে, না আগের মতো ইনডাইরেক্ট হবে, চাঁদা কত হবে, ইত্যাদি অনেক খুঁটিনাটি বিষয় আছে। এই বিধিমালা মানে একটা পরিবর্তন প্রক্রিয়ার ভেতরে আছে। এবং বিভিন্ন মহলের দাবি-দাওয়াগুলো অ্যাকোমোডেট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে যতক্ষণ চূড়ান্ত ঘোষণা না আসছে, ততক্ষণ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। এখন আমরা চেষ্টা করছি, নব্বই দিন সময় লাগবে। এটা আবার নির্বাচন বিধিমালার ভেতরেই আছে— নব্বই দিনে ইলেকশন করতে হবে। তারপর ক্ষমতা হস্তান্তরে দুই-এক দিন; বিধিমালা জারি হওয়ার পরে আমার বৈঠক করতে হবে নির্বাচনী বোর্ড গঠন করার জন্য। জারি করার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের। এখানে আমাদের কিছু করণীয় নেই। আমরা এখনো আশাবাদী, একশো বিশ দিনের ভিতরে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে নির্বাচন করার।

রাইজিংবিডি: সেক্ষেত্রে বেসিক প্রায়োরিটি কি— নির্বাচন নাকি প্রতিষ্ঠান, এই সংগঠনের কাঠামোগত রূপান্তর বা পরিবর্তন?

ফজলুল হক: কাঠামোগত রূপান্তরের কোনো এখতিয়ার আসলে প্রশাসকের নেই। আপনি যে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে চান, সেটা দুভাবে হতে পারে। একটা হচ্ছে, বাণিজ্য বিধিমালার পরিবর্তনের মাধ্যমে, আরেকটা হতে পারে স্ব ‍স্ব প্রতিষ্ঠানের এজিএফ বা ইজিএমের মাধ্যমে। অর্থাৎ ‘সংস্কার’ যদি বলেন। সংস্কার করার ক্ষমতা এককভাবে প্রশাসক বা কোনো সংগঠনের সহ-সভাপতিকে দেওয়া হয়নি। দুভাবে হতে পারে— একটা যে অভিভাবক তারা করতে পারে, অথবা এজিএমের মাধ্যমে করতে পারে। 

রাইজিংবিডি: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে এরকম একটা আলোচনা হয়েছিল যে, আমাদের যে বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো আছে, সেগুলোকে পলিটিক্যাল টুল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা; এই বিষয়টি কি কোনোভাবে কমানো সম্ভব, বা আপনাদের চেষ্টা আছে?

ফজলুল হক: এটা সম্ভব। এখানে মানসিকতা পরিবর্তন করাটা বেশি জরুরি। সরকার চাইতেই পারে, ব্যবসায়ীরা তাকে সমর্থন দিক, ডাক্তাররা সমর্থন দিক। সে চাইবে, জনগণের বিভিন্ন অংশ তাকে সমর্থন দিক। এটা সে চাইতে পারে। কিন্তু আমরা যারা ব্যবসায়ী, আমাদের সীমারেখা আমাদের নিজেদের চিন্তাভাবনা করা উচিত যে, আমরা আসলে কোন জায়গায় একটা বর্ডারলাইন টানব। আমরা সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ে কোনো বিরোধিতা করব না। আমরা রাজনৈতিক দল না যে সরকার কিছু বললেই আমরা আন্দোলন নেমে গেলাম। সরকারের সঙ্গে আমাদের সহায়তা করেই চলতে হবে। তার মানে এই না যে লেজুড়বৃত্তি করা, পার্টির সঙ্গে মিশে যাওয়া।

রাইজিংবিডি: পলিটিক্যাল গেইনটা আপনাদের ইনটেনশন…?

ফজলুল হক: হ্যাঁ, পলিটিক্যাল ব্যাপার নয়, ধরেন আমি ফজলুল, তিনি জাকির হোসেন, তিনি গিয়াস উদ্দিন… যার যার পলিটিক্যাল আইডিওলজি থাকতে পারে। কিন্তু সেখানে আমার পরিষ্কার বক্তব্য হলো— আমার যদি পলিটিক্যাল আইডিওলজি থাকে, তার বাস্তবায়ন করবো আমি আমার পলিটিক্যাল প্ল্যাটফর্মে গিয়ে। আমার পলিটিক্যাল আইডিওলজির জন্য আমি আমার বিজনেস প্ল্যাটফর্মটাকে ব্যবহার করতে পারি না।  এটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা হচ্ছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আইন বা সিস্টেম করে  খুব বেশি লাভ হবে না যতক্ষণ আমরা মানসিকতার পরিবর্তন করতে না পারবো।

রাইজিংবিডি: এটা কি এরকম একটা কারণ হতে পারে যে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করা খুব কঠিন!

ফজলুল হক: না। বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন এতে সন্দেহ নাই। আমাদের গ্যাস থাকে না, গ্যাস থাকলে বিদ্যুৎ থাকে না, গ্যাস বিদ্যুৎ থাকলে আবার ব্যাংক বন্ধ থাকে, তারপর আবার পানি থাকে না, রাস্তাঘাট ঠিক থাকে না। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে সমস্যার কোনো অভাব নেই। কিন্তু আমরা…

রাইজিংবিডি: সমস্যাগুলোর সহজ সমাধানের জন্য আপনারা কি পলিটিক্যাল পার্টির কাছে যান?

ফজলুল হক: না। আমার কাছে মনে হয় এটা ব্যক্তিগত। মানে এটা যত না বিজনেস কমিউনিটির সুবিধা, তার চেয়ে ব্যক্তি সুবিধার জন্য পলিটিক্যালি বেশি ইনভলভ।

রাইজিংবিডি: এই আলোচনা এ কারণে আসছে যে, এর আগে যারা ব্যবসায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা বিভিন্ন সময় এরকম মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করা যতটা কঠিন ব্যবসা কন্টিনিউ করা তার চেয়ে বেশি কঠিন।

ফজলুল হক: কোনো সন্দেহ নাই। ইট ইজ রিয়েলি টাফ। আপনি যে ব্যবসা করেন; মুদি দোকানদারি করেন অথবা এরোপ্লেন চালান, ইন্ডাস্ট্রি চালান, এভরিহোয়ার দেয়ার ইজ এ প্রব্লেম! হ্যাঁ, এটা দেশের কাঠামোগত সমস্যা। আমরা দরিদ্র দেশ। ইচ্ছা করলেও অনেক কিছু করতে পারি না। আমাদের তেল-গ্যাস পর্যাপ্ত থাকে না। আমাদের ফ্যাসিলিটিজের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। ওগুলো ভিন্ন আলাপ। আমি বলছি যে, ব্যবসা করা কঠিন। তো ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ কথাটি কি সরকারকে বলবে? রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার তো কোনো দরকার নাই। মিশে গেলে তো আপনি আপনার কথা বলতে পারবেন না। আপনি যদি রাজনৈতিক দলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন, তাহলেই আপনি দু’একটা অপ্রিয় কথা বলতে পারবেন। কারণ এখন যারা দেশ চালায়, আপনি গিয়ে তাদের কাছে গ্যাসের কথা বললে; এটা একটা ব্যর্থতা। সে গ্যাস দিতে পারছে না, ব্যাংক ইন্টারেস্ট কমাতে পারছে না, মূল্যস্ফীতি কমাতে পারছে না। এ কথাগুলো আপনি তখন বলতে পারবেন না, যখন আপনি সরকারের সঙ্গে বিলীন হয়ে যাবেন। 

রাইজিংবিডি: একটু অন্যভাবে বলি, বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ খুব কম সময়ের মধ্যে বদলে দিতে চাইলে, উন্নত করতে চাইলে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন? 

ফজলুল হক: আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতার ভেতরে বিজনেসের পলিটিক্যাল উইংটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এখানে স্বচ্ছতাটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিজনেসম্যান এবং পলিটিশিয়ান, গভর্নমেন্টের দুইটা পার্ট। একটা হলো পলিটিক্যাল পার্ট, আরেকটা হলো আমলাতান্ত্রিক পার্ট যেটা, ব্যুরোক্রেটিক পার্ট। আমাদের যে অভাব অভিযোগ; এই অভিযোগের বড় কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু এই ব্যুরোক্রেটিক পার্ট অব দ্য গভর্নমেন্ট। ইন রেসপেক্ট অব দ্য পার্ট ইন পাওয়ার। মানে ব্যুরোক্রেটিক সিস্টেম যেটা; ধরুন, সরকার আন্তরিক সদিচ্ছায় ঘোষণা করেছে বাজেটের সাত দিনের ভেতরে সব লাইসেন্স পাবে। এখন অর্থমন্ত্রী তো গিয়ে লাইসেন্স ইস্যু করবে না, বাণিজ্যমন্ত্রীও লাইসেন্স ইস্যু করবে না। ইস্যু করবে তার যে ব্যুরোক্রেটিক সিস্টেম এটা। কিন্তু সিস্টেম তো এভাবে কাজ করছে না। সো এখন এটা চেঞ্জ করার জন্য দুটো জিনিস দরকার। একটা হলো ব্যুরোক্রেটিক যে সিস্টেম আছে, তাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। এটা যদি না হয়, ওই আগেই বলছি, শুধু আইন করে চেঞ্জ করতে পারবেন না। হ্যাঁ, আপনি একটা সার্টেন লেভেল করতে পারবেন। এবং পলিটিক্যাল পার্ট অব গভর্নমেন্ট যেটা আছে, তারা যদি ব্যুরোক্রেটিক পার্টকে আরেকটু অনুপ্রাণিত করতে পারে, আরেকটু কন্ট্রোল করতে পারে, আরেকটু সুপারভাইজ বেশি করতে পারে, প্রবলেমগুলো যদি তারা ক্লোজলি ফলো-আপ করে, মনিটর করে, তাহলে সিস্টেমে কিছু উন্নতি হবে। আবার ধরুন সরকারেরও হাজার রকম সমস্যা। বিজনেস এবং ইকোনমি এখন পলিটিক্সের ওতপ্রোত অংশ। তো এখানে সরকার যে গুরুত্ব কম দিচ্ছে, আমি সেটা বলব না। 

রাইজিংবিডি: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াও এখানে ব্যাংক ঋণের যে উচ্চ সুদের হার বা এনবিআর… আমি বেসিক্যালি একটা এক্সপ্লানেশন শুনতে চাচ্ছি, আসলে কী ধরনের আপনাদের অবস্ট্যাকলগুলো দেয়?  

ফজলুল হক: ব্যাংক সুদের ব্যাপারটা হচ্ছে কি, এখন ধরেন এটা গভর্নমেন্ট একটা অদ্ভুত মানে একটা সাইকেলে পড়েছে। আপনার ইনফ্লেশন ইজ ভেরি হাই, যেটা একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে, না হলে যা আমি বলতে চাচ্ছি, একেবারে ফুটপাতের ভিক্ষুক থেকে আরম্ভ করে সবাই উচ্চ মধ্যবিত্ত পর্যন্ত, একেবারে উচ্চবিত্ত যারা তাদের হয়তো এটা গায়ে লাগছে না। কারণ এটা ওভারকাম করার মতো ফিনান্সিয়াল ক্যাপাসিটি তাদের আছে। কিন্তু ওই ভিক্ষুক থেকে আরম্ভ করে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্তকেও কোনো না কোনোভাবে এটা ইফেক্ট করছে। গভর্নমেন্টের মেজরিটি ভোট এখানে। এবং গভর্নমেন্টকে ইনফ্লেশনের ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকাই করতে হয়। ইনফ্লেশন আর রেট অব ইন্টারেস্ট বিপরীতমুখী একটা সমস্যা। আপনি যদি রেট অব ইন্টারেস্ট কমিয়ে দেন, তাহলে কালকে আবার ইনফ্লেশন বেড়ে যেতে পারে। ইনফ্লেশন কন্ট্রোল করার জন্য রেট অব ইন্টারেস্ট বাড়াইতে হয়। এটা ইকোনমিক্সের ভেরি বেসিক ফর্মুলা।

যদিও বাংলাদেশে ইনফ্লেশনের জন্য শুধু রেট অব ইন্টারেস্ট দায়ী না। বাট রেট অব ইন্টারেস্ট একটা ফ্যাক্টর। এজন্য আমার মনে হয় গভর্নমেন্ট এই জায়গায় বেকায়দা অবস্থায় আছে। এবং সেক্ষেত্রে তার টপ প্রায়োরিটি ইনফ্লেশন কন্ট্রোল করা, সেটাই হওয়া উচিত। মানে ইনফ্লেশনে আমরা ব্যবসায়ী, নন-ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক সবাই এফেক্টেড। আর রেট অব ইন্টারেস্টে, যার জন্য সরকার একটা উদ্যোগ নিচ্ছে কয়েকদিন আগে দেখবেন যে নীতি সুদহার ০.৫ পারসেন্ট কমিয়েছে। যদি বলি ০.৫ পারসেন্ট ইজ নট এনাফ, নট এনাফ ইন এনি রেসপেক্ট। কিন্তু সরকার, আমার ধারণা, সরকার ০.৫ পারসেন্ট দিয়ে একটা টেস্ট কেস হিসেবে দেখছে রিঅ্যাকশনটা কেমন আসে। যদি কন্ট্রোলে আসে, আমি হয়তো তখন আশা করতে পারি, আগামী সপ্তাহে আরেক পারসেন্ট গভর্নমেন্ট কমানোর সাহস নিতে পারে। এটা আমার ধারণা। কারণ রেট অব ইন্টারেস্ট যদি না কমে, সরকারের যেমন আরেকটা বড় এজেন্ডা আছে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা। বিনিয়োগ না করলে তো কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে না। 

রাইজিংবিডি: আমি এক্সাক্টলি এটাই বলতে চাই।  এনভায়রনমেন্টের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের সম্পর্ক আসলে কতটা?

ফজলুল হক: বিদেশি বিনিয়োগের প্রশ্ন পরে, সোজা জিনিস হলো, আপনি নিজে যখন বিনিয়োগ করবেন না আপনার দেশে, বাইরের কার ঠেকা পড়েছে আপনার দেশে বিনিয়োগ করবে? 

রাইজিংবিডি: আমাদের লোকাল বিনিয়োগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ দুইটারই অবস্থা খারাপ! 

ফজলুল হক: দুইটারই অবস্থা খারাপ। আমি ফোকাসটা করছি লোকাল বিনিয়োগকারীকে। লোকাল বিনিয়োগকারী আপনি। আপনার পরিবারের লোক যদি আপনার সিস্টেমে আস্থা না রাখে, পাশের বাড়ির লোক তো আপনার উপর আস্থা রাখবে না। এবং তার জন্য অনেক অপশন আছে। কিন্তু আমি ইচ্ছা করলেই কালকে ভারতে গিয়ে বিনিয়োগ করতে পারব না। আমি যদি বিনিয়োগ করতে চাই, আমাকে এ দেশেই বিনিয়োগ করতে হবে। তাহলে আমি যদি এখানে বিনিয়োগ করতে সাহস না পাই, তাহলে বাইরের একজন, যার কাছে আরও দশটা অপশন আছে, সে কেন এখানে আসবে? খুবই সিম্পল। আমরা বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছি না। আমি বলছি, ফোকাসটা আগে লোকাল বিনিয়োগে বেশি হওয়া উচিত। লোকাল বিনিয়োগের পরিবেশ-পরিস্থিতি; অর্থাৎ এটি বিনিয়োগ বান্ধব করা দরকার। রেট অব ইন্টারেস্ট ইজ বিগ ফ্যাক্টর, জ্বালানি একটা বিষয়।

আমি জ্বালানি নিয়ে একটা কথা বলি। আমাদের এখন বিদেশি বিনিয়োগ এবং লোকাল যে বড় বড় বিনিয়োগ; জ্বালানি নির্ভরতা কম এমন জায়গাগুলিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্র বাছাই করা যায় কিনা, এটা একটা আইডিয়া হইতে পারে। সার্ভিস সেক্টরে অনেক বিনিয়োগ আসতে পারে। এই জায়গাগুলো একটু আলাদা করে, যেহেতু আমাদের এখন জ্বালানিতে দুর্বলতা আছে; আমাদের বড় দুর্বলতা এক্সপোজ না করে, যে জায়গায় দুর্বলতা নেই, সেই জায়গাগুলোকে যদি আমরা হাইলাইট করতে পারি, আমরা যদি ফরেনদের মানি ইনভেস্টমেন্ট অ্যাট্রাক্ট করতে পারি, তাহলে একটা ইকোনমিক বুস্ট আপ হবে। আর লোকাল বিনিয়োগ করার জন্য ব্যাংক ইন্টারেস্ট কমানো এবং লোকাল বিনিয়োগ বলতে আমরা কারখানা বুঝি, কারখানা ছাড়াও বিনিয়োগ আছে। সেই ক্ষেত্রে আমার একটা আবেদন বা পরামর্শ, একটু বিভাজন করা যায় কিনা?

মানে যেটা ওই লেস রিলেটেড উইথ পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি ওই রকম খাতকে আমরা একটু অগ্রাধিকার এবং কোনো বাড়তি প্রণোদনা দিয়া বা প্রচারণা চালাতে পারি যে আপনারা এই সেক্টরে বিনিয়োগ করেন। সরকার যদি পথ দেখায়, কিছু একটা গাইডও দিতে পারে। বিনিয়োগ বোর্ড আছে, সরকারের আরও অনেক মেশিনারি আছে। তারা যদি একটু সেপারেট করতে পারে, আপনারা এই এই সেক্টরগুলোতে বিনিয়োগ করলে, মানে আমাদের যে এক্সিস্টিং ইন্ডাস্ট্রিগুলি আছে সেটা আমরা কীভাবে আরো ভালোভাবে চালাতে পারি সেটার সলিউশন আগে করা দরকার। কারণ যারা অলরেডি ইনভেস্ট করে বসে আছে তাদের সুস্থ না রেখে নতুন ইনভেস্টর এনে পরিস্থিতি আরো জটিল করা কতটা ঠিক হবে প্রশ্ন থেকেই যায়। 

রাইজিংবিডি: আমাদের গ্যাস ব্যবহারের যে কালচার অর্থাৎ গ্যাস দিয়ে রান্না করা, যেহেতু আমরা এখন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনের দিকে গেছি, তো এই কালচার বদলানো উচিত কিনা? 

ফজলুল হক : সরকার অলরেডি নিরুৎসাহিত করছে। বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধও আছে। এটা যদি জাতির বৃহত্তর স্বার্থে হয় সেটা করা যেতে পারে। গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার কোথায় হবে সেটা নিয়ে ভালো পরিকল্পনা দরকার। যেমন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে, সার উৎপাদনে গ্যাসের প্রচুর ব্যবহার আছে, এগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনার স্কোপ আছে। জ্বালানি শুধু গৃহস্থালীর জায়গায় নয়, প্রায়োরিটি কোথায় দেব সেটা আলোচনার দাবি রাখে।  

রাইজিংবিডি: একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। এনবিআর-এর সংস্কার নিয়ে, বা আমাদের এখানে যে ভ্যাট, ট্যাক্সের যে সিস্টেম এই  ব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো প্রস্তাব আপনাদের আছে কিনা?

ফজলুল হক: এনবিআর-এর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করুক কিন্তু মন-মানসিকতার পরিবর্তন বা সংস্কার না হলে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন দিয়ে কোন কাজ হবে আমি এটা বিশ্বাস করি না।  এনবিআর-এর দুইটা পার্ট। এনবিআর যেমন, মানে কালেক্টর অব রেভিনিউ এবং এনবিআর হ্যাজ টু—এনবিআর কিন্তু সার্ভিস প্রোভাইডারও। দুইটাই কিন্তু তার কাজ। তাকে শুধু কালেক্টরের ভূমিকা থাকলে হবে না। তার সার্ভিস প্রোভাইড করার যে দায় বা দায়িত্ব সেটা প্রপারলি, টাইমলি, অনেস্টলি তারা ডেলিভার করছে কিনা সেটাও দেখার বিষয় আছে। সো প্রাতিষ্ঠানিক, মানে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দরকার আছে। আমি আবারও বললাম, মানসিকতার পরিবর্তন না হলে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন দিয়ে আমরা বেনিফিটেড হবো না।  

রাইজিংবিডি: আমি একটু স্পেসিফিক জানতে চাই, এনবিআর বিজনেসম্যানদের সঙ্গে কী ধরনের মানসিকতা তারা ডিল করে? মানে তারা কি এখানে সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে ডিল করতে যায় নাকি? 

ফজলুল হক: না না, আমরা এনবিআর-এর কাছে যাই সার্ভিস নেওয়ার জন্যই। এটা সার্ভিস। আমি ট্যাক্স দিলাম, ট্যাক্সের সার্টিফিকেট আনলাম, আমার বন্ড লাইসেন্স… আমি বন্ড লাইসেন্স আনতে গেলাম, আমি চিটাগংয়ে মালটা আসলো, আমি তাড়াতাড়ি খালাস করে নিয়ে আসলাম, এক্সপোর্টের সময় তাড়াতাড়ি, এটা সার্ভিস। এবং সার্ভিসের পাশাপাশি এনবিআর-এর বড় ভূমিকা হচ্ছে রেভিনিউ কালেক্ট করা। সেটা সে করবেই। কিন্তু এই যে ট্যাক্স দিতে গিয়ে যে হয়রানি, এটা তো সার্ভিসের পার্ট। 

রাইজিংবিডি: মানে তারা অনেকটা অথরিটারিয়ান বিহেভ করে।

ফজলুল হক: আরো নানান রকম বিহেভিয়ার ওখানে আছে, অথরিটারিয়ান বিহেভিয়ার তো আছেই। এটা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে, আমি আর সেদিকে যেতে চাই না। উর্দুতে একটা প্রবাদ আছে না—আকলমান্দ কে লিয়ে ইশারা কাফি, পাঠক বুঝবে আশাকরি। 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *