ভারত সরকারকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ার পরামর্শ
অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হলে তার কোপ পড়ে ভিসার ক্ষেত্রে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মনে করে, সম্পর্কের উন্নতিতে সবচেয়ে কার্যকর হলো ভিসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক করে তোলা। সরকারকে সেই সুপারিশও করা হয়। বলা হয়েছে, ভিসা সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারবে না।
মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নষ্ট হবে। সম্পর্ক ভালো হওয়ার পথে তা অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। কমিটি তাই সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল, নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে রেখেও সরকারের উচিত পারস্পরিক আস্থা ও ভরসা বৃদ্ধির স্বার্থে দ্রুত ভিসাদান স্বাভাবিক করে তোলা। ভিসার জন্য এক দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা কার্যপদ্ধতি চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, এখনো দিনে দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ মেডিক্যাল ভিসা। নিরাপত্তাসহ অন্যান্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক যত হবে, তত বেশি করে ভিসা দেওয়া শুরু হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি অবশ্য জানিয়েছেন, ভারতের দিক থেকে ভিসাপ্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষিত করার ওপরেও সংসদীয় কমিটি জোর দিয়েছে। কমিটির সুপারিশ, যে যে এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভবপর নয়, সেখানে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। তবে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে। কমিটি এই ক্ষেত্রে ভাসমান বেড়া, লেজারের সাহায্যে অনুপ্রবেশ রোধ, দুর্গম এবং জনবহুল এলাকায় স্মার্ট সেন্সর ব্যবস্থা চালু করার পরামর্শ দিয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, এই সব ক্ষেত্রে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কিছু উদ্ভাবনের কথা বলেছে। সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে।
