মুখের দুর্গন্ধ পেটের কারণেও হতে পারে
প্রতিদিন কথা বলা বা সামাজিক মেলামেশার সময় মুখের দুর্গন্ধ বেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই মনে করেন, ঠিকমতো ব্রাশ না করা, মাড়ির সমস্যা কিংবা মুখে খাবারের কণা জমে থাকার কারণেই শুধু এমন হয়। তাই নিয়মিত ব্রাশ, মাউথওয়াশ বা মিন্ট ব্যবহার করেও দুর্গন্ধ না কমলে অনেকে চিন্তায় পড়ে যান। অথচ মুখের সমস্যার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার সঙ্গেও মুখের দুর্গন্ধের সম্পর্ক থাকতে পারে।
পেটের সমস্যায় যেভাবে মুখে দুর্গন্ধ হয়
মুখ ও পাকস্থলী একই পরিপাকনালির অংশ। তাই হজমের গোলযোগ, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা কিছু পরিপাকতন্ত্রের সমস্যায় মুখে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি হতে পারে। তবে মুখের দুর্গন্ধের সবচেয়ে সাধারণ কারণ সাধারণত মুখ, দাঁত ও মাড়ির সমস্যা। তাই দীর্ঘদিন দুর্গন্ধ থাকলে শুধু পেটের সমস্যা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স
গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ হলে পাকস্থলীর অ্যাসিড ও খাবারের কিছু অংশ খাদ্যনালির দিকে উঠে আসতে পারে। এতে টক ঢেকুর, বুক জ্বালা, মুখে টক স্বাদ এবং কখনো দুর্গন্ধের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে এই সমস্যা বাড়তে পারে।
হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য
হজমের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে পেট ফাঁপা, ঢেকুর ও গ্যাসের মতো অস্বস্তি হতে পারে। এসব সমস্যার সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধও কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে।কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে মুখের দুর্গন্ধের পরোক্ষ কিছু যোগসূত্র রয়েছে।
হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি সংক্রমণের কারণে
পাকস্থলীতে হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ গ্যাস্ট্রাইটিস ও পাকস্থলীর আলসারের কারণ হতে পারে। কিছু গবেষণায় এই সংক্রমণের সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে দুর্গন্ধের কারণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি।
আইবিএস বা গ্যাসের সমস্যা
ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (আইবিএস) বা অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের কারণে পরিপাকতন্ত্রে স্বাভাবিক এনজাইমের অভাব ঘটে। ফলে খাবার প্রাকৃতিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাসে রূপান্তরিত হয় এবং পচা টক ঢেকুরের সঙ্গে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি করে।
মুখের দুর্গন্ধ কমাতে যা করবেন
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
মুখ শুকিয়ে গেলে দুর্গন্ধ বাড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করুন। নিয়মিত পানি খেলে মুখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরও পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা পায়।
আঁশযুক্ত খাবার খান
শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত ফাইবার খাওয়া ঠিক নয়। ধীরে ধীরে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো।
ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মসলা কমান
অতিরিক্ত তেল, ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার অনেকের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদহজমের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। কোন খাবারে আপনার সমস্যা বাড়ে, সেটিও খেয়াল করুন। প্রয়োজন হলে সেই খাবার কমিয়ে দিন।
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না
খাওয়ার পরপর বিছানায় শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালির দিকে উঠে আসার প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার রাখুন
মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম সাধারণ কারণ মুখের ভেতরের সমস্যা। তাই দিনে অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করার পাশাপাশি জিহ্বাও পরিষ্কার করুন। দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে থাকলে তা পরিষ্কার করাও জরুরি। নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করানো ভালো।
ধূমপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান মুখ শুকিয়ে দিতে পারে এবং মুখে দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। তাই মুখের স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ধূমপান এড়িয়ে চলা জরুরি।
নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাবেন না
মুখে দুর্গন্ধ বা পেটের অস্বস্তি হলেই নিজের মতো করে অ্যান্টাসিড, গ্যাসের ওষুধ বা অন্য কোনো ওষুধ নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়। কারণ সমস্যার আসল কারণ জানা জরুরি। মুখের দুর্গন্ধ নিয়মিত থাকলে এবং ভালোভাবে দাঁত-মুখ পরিষ্কার রাখার পরও সমস্যা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে মুখে দুর্গন্ধের সঙ্গে বারবার বুক জ্বালা, টক ঢেকুর, দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, গিলতে সমস্যা, বারবার বমি কিংবা অস্বাভাবিক ওজন কমার মতো লক্ষণ থাকলে অবহেলা করবেন না।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
এসএকেওয়াই
