মেয়ের বাড়িতে গিয়ে জামাইয়ের লাঠির আঘাতে শ্বশুরের মৃত্যু
মেয়ের দাম্পত্য কলহের খবর পেয়ে তা মেটাতে ছুটে গিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেই মীমাংসার চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত কাল হলো। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মেয়ের জামাইয়ের বাঁশের লাঠির আঘাতে হাফিজ উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের দারোগারচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাফিজ উদ্দিন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাঁচগাঁও উত্তরপাড়া গ্রামের সাহাবউদ্দিনের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে শ্রীপুরের সলিং মোড় এলাকায় মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ফিরুজ নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি গ্রামের ফেরদৌস মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর তিনি ঘরে তালা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হাফিজ উদ্দিনের মেয়ের সঙ্গে তার স্বামী ফিরুজের প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হতো। মঙ্গলবার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি জানতে মেয়ের বাড়িতে যান হাফিজ উদ্দিন। সেখানে দাম্পত্য কলহের কারণ জানতে মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ফিরুজ বাঁশের লাঠি দিয়ে হাফিজ উদ্দিনকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনেরা অভিযুক্ত ফিরুজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, হাফিজ উদ্দিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
