যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের সম্পদ নিয়ে এফবিআইয়ের প্রতিবেদন দুদকে


যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসার রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।

এর আগে তাদের ব্যাংক, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ড চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠিয়েছিল দুদক। দেশটিতে থাকা অপরাধলব্ধ বলে অভিযোগ করা সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করতেও সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার স্ত্রী নাসরিন ইসলাম ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে দুদকের আইনি সহায়তার অনুরোধ পুরোপুরি বাস্তবায়নের তথ্য দিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপ অঞ্চল আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার তথ্য দিয়েছে তারা।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম সোমবার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য দেন।

দুদক বলেছে, সাইফুজ্জামান চৌদুরী জাবেদ ও তার স্ত্রীর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ বা এমএলএআর পাঠানো হয়েছিল।

এমএলএআর হল, তদন্ত বা বিচারকাজে তথ্য, নথি কিংবা সম্পদ জব্দের জন্য অন্য দেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চাওয়ার প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের সহায়তা চেয়েছিল দুদক।

অনুরোধে জাবেদ ও তার স্ত্রীর ব্যাংক, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ড চাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অপরাধলব্ধ বলে অভিযোগ করা সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করতেও সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।

তবে এফবিআই থেকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি কবে এসেছে, তাতে কী তথ্য রয়েছে কিংবা কত সম্পদ চিহ্নিত হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি দুদক। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো সম্পদ এরই মধ্যে জব্দ বা বাজেয়াপ্ত হয়েছে কি না, তাও জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা জাবেদ দম্পতির সম্পদের মূল্য জানতে চাইলে আকতারুল ইসলাম বলেন, পরে তথ্য পাওয়া গেলে সাংবাদিকদের জানানো হবে।

২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি ঢাকার একটি আদালত আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌদুরী জাবেদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের সাত দেশে থাকা ১ হাজার ৮২৪ কোটি ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯০৫ টাকার সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পত্তির ক্রয়মূল্য দেখান হয়েছিল ৪৩৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৪২ টাকা।

নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার স্ত্রী নাসরিন ইসলাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এবং ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের বিষয়ে আইল অব ম্যানে এমএলএআর পাঠিয়েছিল দুদক। কমিশন বলেছে, অনুরোধে চাওয়া সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ। এমএলএআরটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার তথ্যও দুদককে দিয়েছে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটিশ কোম্পানি নিবন্ধকের অনলাইন নথি অনুযায়ী, ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেড আইল অব ম্যানে নিবন্ধিত। নথিতে নাসরিন ইসলাম ও নজরুল ইসলাম মজুমদারকে প্রতিষ্ঠানটির সুবিধাভোগী মালিক দেখানো হয়েছে। কোম্পানিতে দুজনেরই ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ও ভোটাধিকার রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নজরুলের বিরুদ্ধে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *