সিটি ব্যাংকের ‘সাঁইজি’ বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক


‘ব্যাপার কী, সাঁইজি?’ শিরোনামের সিটি ব্যাংকের নতুন বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাউল ও লালন ফকিরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে উপস্থাপনের ধরন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে অনেকে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার বা ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন।

‘ব্যাপার কী, সাঁইজি?’ শিরোনামে সিটি ব্যাংকের নতুন একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞাপনটিতে বাউল ও সাঁইজি চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নেটিজেনদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, বাউল সংস্কৃতি ও লালন ফকিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিজ্ঞাপনে হাস্যরসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

৩৫ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনটি সম্প্রতি সিটি ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দুটি চরিত্র দেখা যায়—একজন বাউল চরিত্রের ‘সাঁইজি’ এবং অন্যজন তরুণ আগন্তুক। বাউল চরিত্রে অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত এবং তরুণ আগন্তকের চরিত্রে দেখা গেছে গায়ক প্রীতম হাসানকে।

বিজ্ঞাপনের শুরুতে শ্বেতশুভ্র পোশাকে দোতারা হাতে একটি জলাধারের পাশে বাঁশের মাচায় বসে গান গাইতে দেখা যায় সাঁইজিকে। সেখানে মহাত্মা লালন ফকিরের বিখ্যাত গান ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি…’ গাইছিলেন তিনি।

একপর্যায়ে সাঁইজির পেছন থেকে ফ্রেমে প্রবেশ করেন তরুণ আগন্তুক। তিনি বলেন, “সাঁইজি, বসেই যেহেতু আছেন, অ্যাকাউন্টটা খুলেই ফেলেন!”

এতে কিছুটা হতচকিত হয়ে সাঁইজি জানতে চান, “ব্যাংকে যাওয়া, ফর্ম নেওয়া, পেপার্স দেওয়া এখানে কীভাবে?”

জবাবে তরুণ বলেন, “সাঁইজি, সিটি টাচ। বাংলাদেশের পাওয়ারফুল ব্যাংকিং অ্যাপে সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলুন জায়গায় বসে!”

এরপর সিটি টাচ অ্যাপ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞাপনটির সমাপ্তি ঘটে।

বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিষয়বস্তু ও চরিত্রায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের একটি অংশের দাবি, বাউল ও সাঁইজি চরিত্রকে বিজ্ঞাপনের হাস্যরস তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের লোকঐতিহ্য ও বাউল সংস্কৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখায় না।

এ নিয়ে বিজ্ঞাপনটির কপি ও নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, বিজ্ঞাপনের সঙ্গে শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতাও যুক্ত থাকে। বিশেষ করে কোনো বিজ্ঞাপনে ঐতিহাসিক, আধ্যাত্মিক বা সাংস্কৃতিক প্রতীক ব্যবহার করা হলে সেই উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলতা প্রয়োজন।

সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, বাউল দর্শনের মানবতাবাদ, আত্মঅন্বেষণ, প্রেম, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার মতো বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে শুধু বাহ্যিক পোশাক, দোতারা ও ‘সাঁইজি’ পরিচয়কে বিজ্ঞাপনের হাস্যরসের অংশ করা হয়েছে। এতে বাউল সংস্কৃতিকে একটি সরলীকৃত স্টেরিওটাইপে পরিণত করার ঝুঁকি রয়েছে বলেও মন্তব্য করছেন তারা।

বিজ্ঞাপনটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকে এর বিরোধিতা করছেন। কেউ কেউ বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার কিংবা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

তবে বিজ্ঞাপনটি নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সিটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *