হরমুজ সংকটে সেপ্টেম্বরের পরও কাতারের এলএনজি পাবে না বাংলাদেশ
নেপাল ও চীনে গত সপ্তাহের ভূমিধস ও প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১০০০ ছাড়িয়ে গেছে। উভয় দেশে এখনও ৪৪০০ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
নেপালে থাকা সিএনএনের টিম জানিয়েছে, শনাক্ত করা যায়নি এমন শত শত নিহতকে কর্তৃপক্ষ গণকবরে মাটিচাপা দিচ্ছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সকালে সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, বন্যায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, নেপালে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৩৯১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
চীনের তীব্বত অংশে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে আর ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে রোববার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে।
এতে দুই দেশ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০০৩ জনে আর নিখোঁজের সংখ্যা ৪৪৬২ জনে দাঁড়িয়েছে।
নেপালে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বহু কর্মী আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাদার ভারী স্তরে স্থাপনাটি ঢাকা পড়েছে। এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ জনের মতো কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রিয়া অধিকারী
প্রিয়া নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন এবং একমাত্র নারী উদ্ধারকারী পাইলট। দুর্যোগের এ সময়টিতে তিনি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে জীবিতদের উদ্ধারে প্রায় ১০০ মিশন পরিচালনা করেছেন।
অলৌকিক উদ্ধার
প্রলয়ঙ্করী বন্যায় ভেসে যাওয়ার পর পাঁচ বছর বয়সী মনীষা মাগারকে সবাই মৃত বলে ধরে নিয়েছিল। ওই সময়ই তার বাবা-মা এক ভিডিও ফুটেজে তাদের প্রিয় সন্তানকে উদ্ধারের ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন।
কঠিন পুনর্মিলন
নেপাল পুলিশের উপ-পরিদর্শক হরি শরণ ঢাকল নিখোঁজ স্বজনদের মৃতদেহ পরিবারগুলোর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার অত্যন্ত কঠিন এক দায়িত্বপালন করছেন। ঢাকল ভরতপুরে নেপাল পোল্ট্রি এন্টারপ্রেনার্স ফোরামের দপ্তরকে উদ্ধারকৃত মরদেহ সনাক্তকরণ এবং তথ্য সংগ্রহের একটি অস্থায়ী সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি নিখোঁজ ৮৩৭ জনের বিশাল একটি তালিকা নিয়ে কাজ করছেন।
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি ১২টি মৃতদেহ তাদের স্বজনকে কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু নদীতে কয়েকদিন পড়ে থাকার ফলে অনেক মৃতদেহ শনাক্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ গণকবরে সমাহিত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঢাকল বলেন, “এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। লোকজন আমাদের কাছে এসে কান্না করছে। আমরা তাদের বেদনা অনুভব করছি।”
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
