হলো না মেয়ের বাড়ি যাওয়া, প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন ফিরোজা


সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ফিরোজা বেগমের গন্তব্য ছিল মেয়ের বাড়ি। বড় মেয়ে শিরি বেগমের কাছে বেড়াতে যাচ্ছিলেন তিনি। মেয়ের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া গ্রামে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর আসে তাঁর মৃত্যুর খবর।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হওয়ার সময় সরকারি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ফিরোজা বিবি (৭৯)। গাড়িটি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানখেতে নেমে যায়।

দুর্ঘটনার পর ফিরোজাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ভর্তি করা হয় বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামীর নাম নিজামুদ্দীন সরকার (মৃত)। তাঁর দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে।

স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফিরোজার বড় ছেলে ফেরদৌস হোসেন কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। ছোট ছেলে সেলিম সরকার কৃষিকাজ করেন। পাঁচ মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ছেলে ফেরদৌসের স্ত্রী রিপা বেগম ও ছোট ছেলে সেলিমের স্ত্রী রেশমা বেগমের সঙ্গে থাকতেন ফিরোজা।

মেয়ের বাড়িত বেড়াবার যাওয়ার কথা কয়া হামার শাশুড়ি বিয়ানবেলা বাড়িত থ্যাকে বের হলেন। মেয়ের বাড়িত যাওয়া হলো না, ফিরলেন লাশ হয়্যা।

জাকির হাসান নামে ফিরোজার এক স্বজন বলেন, বড় চাচা (নিজামুদ্দীন) মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন চাচি (ফিরোজা)। বিঘা দুয়েক জমি চাষাবাদ করে সংসার চলত। গুজিয়ায় বড় মেয়ের কাছে বেড়াতে যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ধরতে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন চাচি। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তবে স্বজনেরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন। এ নিয়ে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান জাকির হাসান। তাঁর ভাষ্য, ফিরোজা বয়স্ক ছিলেন। অসাবধানতাবশত মহাসড়ক পার হতে গিয়ে গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এটি নিছক দুর্ঘটনা।

ফিরোজার পুত্রবধূ রেশমা বেগম বলেন, ‘মেয়ের বাড়িত বেড়াবার যাওয়ার কথা কয়া হামার শাশুড়ি বিয়ানবেলা বাড়িত থ্যাকে বের হলেন। মেয়ের বাড়িত যাওয়া হলো না, ফিরলেন লাশ হয়্যা।’

ফিরোজার মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন বড় ছেলের স্ত্রী রিপা বেগম। স্বামী মারা যাওয়ার পর শাশুড়িই ছিলেন তাঁর বড় আশ্রয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিপা বলেন, শাশুড়ি তাঁর কাছে বটবৃক্ষের ছায়া হিসেবে ছিলেন। এরপর আর কথা বলতে পারেননি রিপা। কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ওই দুর্ঘটনা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুজ্জামান। সন্ধ্যায় ফিরোজার লাশ দাফন করার কথা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অপরদিকে, দূর্ঘটনায় ডান পায়ে চোট পাওয়া প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীকে জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।



বাপ্পি/সা.এ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *