গোপালপুরে ক্লাস চলাকালে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ


টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিদ্যালয়ের গণিত ক্লাস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গণিত ক্লাস চলাকালে শ্রেণি শিক্ষক জহুরুল ইসলাম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে জালাল উদ্দিন (৫২), তার ছেলে রিফাত, তামিম, খোকন ও জনী শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিবের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে একই শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী জাহিদও হামলার শিকার হন বলে জানা যায়। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে আহত দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার পর দুই শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তানকে ক্লাসের মধ্যে মারধর করা হয়েছে বলে সে আমাদের জানিয়েছে। বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষার পরিবেশে একজন শিক্ষার্থী যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের।” অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে আঘাত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রেণিকক্ষের মতো জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর ভুল বা অপরাধ থাকলে বিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি সমাধান করা উচিত। শারীরিকভাবে মারধর না করে কাউন্সেলিং, অভিভাবককে অবহিত করা কিংবা বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম রেজা মুঠোফোনে বলেন, “আমি ছুটিতে আছি। মোবাইল ফোনে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত শুনেছি।” তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সকল শিক্ষককে থানায় উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে।”

এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের পরই বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



কুশল/সাএ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *