এসএসসির পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ আজ, এবার হবে খাতা পুনর্মূল্যায়ন


এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে। সকাল ১০টার দিকে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হবে। গতকাল বুধবার আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের ফল তিন পদ্ধতিতে জানা যাবে। প্রথমত, শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীর দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে সরাসরি এসএমএস পাঠানো হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত ওয়েবসাইট (https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd) থেকেও পরীক্ষার্থীরা ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

এত দিন বোর্ডের নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না; কেবল প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা দেখা হতো। তবে এবার উত্তরপত্র পুরোপুরি পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে।

এ বিষয়ে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে গিয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে কিছুটা চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি আবেদন করেছে। এর মধ্যে লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন জমা পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত ও ব্যবহারিক মিলিয়ে ৩ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি আবেদন করেছে। অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি, কুমিল্লায় ৩৫ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, ময়মনসিংহে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি এবং বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী আবেদন করেছে। এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সব বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ হওয়ায় প্রায় ৩৮ শতাংশ পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমার কারণেই এবার রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *