ধর্ষণ মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রেপ্তার


নেত্রকোণা সদরের এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে র‍্যাব-১৪ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রিপন মিয়া নেত্রকোণা সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি এক সময় কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে বেশ আলোচিত হন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপন বিভিন্ন সময় ভিডিও তৈরির অজুহাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। তিনি গত ৩০ জুলাই রাত ৮টার দিকে ছাত্রীটির বাড়িতে গিয়ে জরুরি কথা আছে বলে ডেকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনা জানাজানি হলে গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাঁকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

সালিসের কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন রিপন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো…! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’

র‍্যাব জানায়, রিপন মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায়ই কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিতেন তিনি। গত ৩০ জুলাই রাতে কিশোরীকে জরুরি কথা আছে বলে স্থানীয় একটি নদীর পাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।

ময়মনসিংহ র‍্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমীন বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *