কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম, বিপাকে মালয়েশিয়ার ঠিকাদাররা


মালয়েশিয়ার নির্মাণ খাতে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ায় ঠিকাদারদের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচক ও ম্যাক্রো অর্থনৈতিক তথ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের এই প্রকৃত চাপ পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির দুটি শীর্ষ ঠিকাদারি সংগঠন।

সোমবার (১৭ আগস্ট), মাস্টার বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া এবং পার্সাতুয়ান কনট্রাক্টর বুমিপুতেরা মালয়েশিয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানিয়েছে।

সংগঠন দুটি বলেছে, নীতিনির্ধারণে সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক ও জাতীয় পর্যায়ের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে ঠিকাদারদের প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রীর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর সঙ্গে পরিবহন, শ্রম ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের জুলাইয়ে শিল্প খাতে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৪.২৬ রিঙ্গিত হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২.৯৫ রিঙ্গিত। একই সময়ে বিটুমিনের দাম প্রতি টনে ৪২ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ২৫ রিঙ্গিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এর দাম ছিল ২ হাজার ১২৫ রিঙ্গিত।

এছাড়া গ্রেড-৩০এন রেডি-মিক্সড কংক্রিটের দাম ১৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ঘনমিটারে ৪০২ রিঙ্গিতে দাঁড়িয়েছে। এর আগে দাম ছিল ৩৫০ রিঙ্গিত। সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের দামও গত বছরের জুনের ২২.৫০ রিঙ্গিত থেকে বেড়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ২৪ রিঙ্গিত হয়েছে, যা ৬.৭ শতাংশ বেশি।

ঠিকাদারি সংগঠন দুটি জানায়, পরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ও ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে পরিবহন সক্ষমতা নিয়ে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কারণে এ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা উল্লেখ করে।

এর পাশাপাশি ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত নির্ধারণ, বিদেশি শ্রমিকদের জন্য কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিল (ইপিএফ) কাঠামোয় পরিবর্তন এবং তামার দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোয় ঠিকাদারদের শ্রম ও পরিচালন ব্যয় আরও বেড়েছে।

সংগঠন দুটি বলেছে, সর্বশেষ ব্যয় বৃদ্ধির আগে নির্ধারিত স্থিরমূল্যের চুক্তিতে কাজ পাওয়া ঠিকাদাররা সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছেন। কারণ চুক্তির মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিবহন ও শ্রমের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে নির্মাণসামগ্রীর এসব মূল্যবৃদ্ধি প্রকল্প বাস্তবায়নের লাভের মার্জিনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের ঠিকাদারদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

দুটি সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, নির্মাণসামগ্রী, পরিবহন ও শ্রম ব্যয়ের সম্মিলিত বৃদ্ধি প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারদের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই লাভের মার্জিন বজায় রেখে প্রকল্প সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি নির্মাণ খাতে সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে মালয়েশিয়ার ওয়ার্কস মিনিস্টার দাতুক সেরি আলেকজান্ডার নান্তা লিঙ্গি মন্তব্য করার পর সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এ বিবৃতি দেওয়া হলো।

মন্ত্রীদের ওই মন্তব্যের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার কথা জানিয়ে এমবিএএম ও পিকেবিএম বলেছে, জাতীয় পর্যায়ের গড় হিসাব অনেক সময় নির্দিষ্ট প্রকল্প বা নির্মাণস্থলে তৈরি হওয়া প্রকৃত ব্যয়ের চাপ আড়াল করতে পারে। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচক দিয়ে নির্মাণ খাতের সব ঠিকাদারের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা কঠিন।

তবে উদ্বেগের মধ্যেও মালয়েশিয়ার অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সংগঠন দুটি। বিশেষ করে ১৩তম মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (আরএমকে-থার্টিন)-এর আওতায় বড় জাতীয় প্রকল্প ও বিভিন্ন অবকাঠামো উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে তারা।

এমআরএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *