১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে মিলতে পারে ৫ লাখ কোটি টাকার গ্যাস
আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া: আমি বলব, প্রথমেই বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। দেশে ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র আছে। এর মধ্যে যদি ২০টিকে কার্যকর ধরি, তাহলে এসব গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যেই আরও কিছু সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার কারণেই একটি গ্যাসক্ষেত্রের সব গ্যাস একটি বা কয়েকটি কূপ খনন করে উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। ফলে যে অংশ থেকে আমরা গ্যাস উত্তোলন করেছি, তার বাইরেও কিছু অংশ থেকে যেতে পারে, যেখানকার গ্যাস এখনো উত্তোলন করা হয়নি। এগুলোকে বলা হয় আনড্রেইন্ড কম্পার্টমেন্ট।
বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর তথ্য-উপাত্ত পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ (রিপ্রসেসিং), পুনর্ব্যাখ্যা (রি–ইন্টারপ্রিটেশন) ও পুনর্মূল্যায়নের (রি–ইভাল্যুশন) মাধ্যমে এসব আনড্রেইন্ড কম্পার্টমেন্ট শনাক্ত করা সম্ভব। এরপর সেখানে দ্রুত নতুন কূপ খনন করা যেতে পারে। একই গ্যাসক্ষেত্রের অন্য একটি অংশে আমরা যেহেতু গ্যাস পেয়েছি, তাই এসব জায়গাতেও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। এর আরেকটি বড় সুবিধা হলো, নতুন করে অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে না। বিদ্যমান অবকাঠামোই ব্যবহার করা যাবে। সেখান থেকে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। এটি হতে পারে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর একটি দ্রুত ও কার্যকর উপায়।
বাংলাদেশে ১৯৫৫ সাল থেকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়। ১৯৬১ সালে আবিষ্কারের মাধ্যমে তা বাস্তব রূপ পায়। ফলে আমাদের অনেক কূপ বেশ পুরোনো। এসব কূপের অনেকগুলো এখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে মেরামত করে আবার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। তবে একটা বিষয় সবার মনে রাখা দরকার যে, অনুসন্ধানের কাজে বাপেক্স হোক আর বিদেশি কোম্পানি, সবাইকেই অসংখ্য অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়। বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ এবং আমাদের গ্যাসক্ষেত্রগুলোও তুলনামূলক ছোট। তাই এখানে অনুসন্ধানের ব্যর্থতাকে খুব বড় করে দেখা উচিত নয়। বরং কোনো কূপে গ্যাস না পাওয়ার অর্থ হলো, আমরা নতুন কিছু তথ্য পেলাম। এই তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান। এসব তথ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতের অনুসন্ধান আরও নির্ভুল করা যায় এবং অনিশ্চয়তা কমানো যায়।
আরেকটি সম্ভাবনা হলো, যেসব গ্যাসক্ষেত্র বর্তমানে উৎপাদনে আছে, সেগুলোর গভীর অংশে ড্রিলিং করা। আমাদের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এত দিন আমরা নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্তই ড্রিলিং করেছি ও ওপরের কয়েকটি স্তর থেকে গ্যাস উত্তোলন করছি। কিন্তু এর আরও গভীরে যে স্তরগুলো রয়েছে, সেখানে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
বাংলাদেশে ইতিমধ্যে কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রে ডিপ ড্রিলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব গ্যাসক্ষেত্র থেকে বড় ধরনের আশার খবর আসতে পারে বলে আমি মনে করি।
মোদ্দাকথা, আনড্রেইন্ড কম্পার্টমেন্ট শনাক্ত করে নতুন কূপ খনন; বিদ্যমান কূপগুলো ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে মেরামত করে উৎপাদন বাড়ানো ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের গভীর স্তরে ড্রিলিং করা—এই তিন কাজের মাধ্যমে আমরা বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকেই উৎপাদন বাড়াতে পারি।
