অপারেশন সিঁদুর ধ্বংসস্তূপে পাকিস্তানের নতুন নির্মাণ
গত বছর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুরে ধ্বংস হওয়া জঙ্গি সংগঠন জঈশ-ই-মোহম্মদের ‘মারকাজ সুভান আল্লাহ’ সদরদপ্তর আবার নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ড্রোন ও স্যাটেলাইট ছবি এবং গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ওই কমপ্লেক্স পুনর্নির্মাণ করে আবার সচল করা হয়েছে।
যেভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর মে মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ক্যাম্পটি মার্বেল পাথর, রং ও প্লাস্টার দিয়ে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। ধসে পড়া গম্বুজগুলোও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় হলঘরের বিশাল গর্ত ভরাট করে হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল কমপ্লেক্সের পাশে থাকা মাদ্রাসা এবং জঈশ কমান্ডারদের আবাসিক কোয়ার্টারও পরিষ্কার করে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে পুরো কমপ্লেক্স আবার সচল অবস্থায় দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে দ্রুততায় এবং যে পরিসরে এই পুনর্নির্মাণ হয়েছে, তা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি কোনো সাধারণ ধর্মীয় বা আবাসিক স্থাপনা নয়।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ‘মারকাজ সুভান আল্লাহ’ দীর্ঘদিন ধরে জঈশ-ই-মোহম্মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
পাকিস্তানের অর্থায়নের অভিযোগ
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি আরও দাবি করেছে, সদরদপ্তরটি পুনর্নির্মাণের জন্য পাকিস্তান সরকার জঈশ-ই-মোহম্মদকে কিস্তিতে ২৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি দিয়েছে।
এর মধ্যে শুধু কেন্দ্রীয় হলঘর পুনর্নির্মাণেই প্রায় ১১ কোটি পাকিস্তানি রুপি ব্যয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই দাবি সত্য হলে, ঘোষিত একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের অবকাঠামো পুনরুজ্জীবনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সমর্থনের বড় একটি ইঙ্গিত হিসেবে এটি বিবেচিত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের ৭ মে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর তার জবাবে ভারতীয় বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে।
সে সময় পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মোট নয়টি প্রধান জঙ্গি আস্তানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত।
এসব লক্ষ্যবস্তুর অন্যতম ছিল আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত জঈশ-ই-মোহম্মদের ১৮ একরের ঘাঁটি।
হামলার পর দীর্ঘদিন সেখানে ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকলেও এখন সেটি আগের মতোই পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
