পিরিয়ডের সময় ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পড়া যাবে?
প্রশ্ন: ঘুমানোর আগে সাধারণত আয়াতুল কুরসী পড়ি। পিরিয়ডের সময় এ আমল করা যাবে?
উত্তর: পিরিয়ডের সময় কোরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ। তবে দোয়া-দরুদ, জিকির, তাসবিহ পড়া জায়েজ। কোরআনে উল্লিখিত দোয়াগুলোও পড়া জায়েজ যদি কোরআন তিলাওয়াত নয়, বরং দোয়া হিসেবে পড়া হয়।
আয়াতুল কুরসীর মতো যেসব আয়াত সকাল-সন্ধ্যা বা ঘুমানোর আগের আমল হিসেবে বা শয়তানি শক্তি থেকে আত্মরক্ষার জন্য পড়া হয়, ওইসব আয়াতও আমল ও আত্মরক্ষার জন্য পড়া যাবে।
মা’মার (রহ.) বলেন, আমি ইমাম জুহরিকে (রহ.) জিজ্ঞাসা করলাম, যার উপর গোসল ফরজ সে কি আল্লাহর জিকির করতে পারবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, পারবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোরআন তিলাওয়াত করতে পারবে? তিনি বললেন, না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক) ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) বলেন, গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তিরা আল্লাহর জিকির করতে পারবে এবং বিসমিল্লাহও পড়তে পারবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)
সকাল-সন্ধ্যার আমল হিসেবে বা শয়তানি শক্তি থেকে আত্মরক্ষার জন্য আয়াতুল কুরসী পড়লে তা দোয়া ও জিকিরের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে, কোরআন তিলাওয়াত গণ্য হবে না।
ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পাঠ করার ফজিলত
আবু হোরায়রা (সা.) থেকে বর্ণিত কেউ যদি রাতে শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসী পাঠ করে, তাহলে সকাল পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার জন্য একজন হেফাজতকারী থাকে এবং শয়তান তার কাছে যেতে পারে না। (সহিহ বুখারি)
আয়াতুল কুরসীর বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তাঅ খুযুহু সিনাতুঁও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইযনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আজিম।
অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না ও নিদ্রাও নয়। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবকিছু তাঁরই। কে আছে এমন যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তাঁদের সামনে কী আছে ও পিছনে কী আছে সবই তিনি জানেন এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টিত করেছে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করতে তাঁর কষ্ট হয় না। এবং তিনিই সর্বোচ্চ ও মহান।
ওএফএফ
