‘আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজ’র আত্মপ্রকাশ 


‘আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজ’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। 

সোমবার (১০ অগাস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘নতুন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্ব কৌশল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করা হয়।

সভায় ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজের’র সদস্য রুবি আমাতুল্লাহ ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। তিনি বলেন, “আধিপত্যবাদের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণ ও রাষ্ট্রকে সচেতন করা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্মিলিত প্রয়াস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়েছে।”

এ প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, “জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তিত আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির প্রয়োজনীয়তা থেকে এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।” 

তিনি দেশের সকল শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যারা স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, গণতান্ত্রিক আত্মশাসন এবং শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বিশ্বাস করেন, তারা যেন এই নাগরিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন।”

আলোচনা সভায় মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম বক্তব্যে বলেন, “জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন একদিকে যেমন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দলের বিরুদ্ধে ছিল, অন্যদিকে তেমনই ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও ছিল। ভারত যদি শেখ হাসিনাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত না থাকে, তাহলে প্রমাণ হবে যে, ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে তার আধিপত্যবাদী অবস্থান এখনো পরিবর্তন করেনি।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা না বাড়ালে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। দেশে নিজস্ব ড্রোন তৈরির সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে এবং চিকেন নেক-কেন্দ্রিক সামরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। তবে, এর মূল উদ্দেশ্য নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কাউকে আক্রমণ করা নয়।” তিনি জুলাই জাদুঘর থেকে ফেলানীর ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার সমালোচনা করেন।

দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “দেশের বেশিরভাগ খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি যদি দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়, তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব সব সময় ঝুঁকিতে থাকবে।”

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যেভাবে বাংলার সম্পদ লুট করার জন্য সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করেছিল, সেই ধারাবাহিকতায় লুটপাট ও অর্থনৈতিক বৈষম্য টিকিয়ে রাখার জন্য আধিপত্যবাদের রূপ পরিবর্তন হয়েছে, ধরন পরিবর্তন হয়নি।” 

তিনি বলেন, “চব্বিশ-পরবর্তী সময়ে আগের আধিপত্যবাদী শক্তিকে ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন বয়ান তৈরি করা হচ্ছে।”

সভায় ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজ’র ৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আহ্বায়ক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সদস্য মানবাধিকারকর্মী ও গবেষক রুবি আমাতুল্লা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ হাসান নাসির, উদ্যোক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাসরুর, সাবেক কূটনীতিক সাকীব আলী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা খান মুখলেছুর রহমান, অ্যাক্টিভিস্ট মিনহাজুল আবেদীন প্রমুখ।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *