কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২২৪, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে উদ্ধার অভিযান। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধসে পড়া ভবন ও কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজা হচ্ছে।
দেশটির সাম্প্রতিক কয়েকটি দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে কলম্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে আঘাত হানে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় পেরেইরা ও কালির মতো বড় শহরগুলোতে একের পর এক বহুতল ভবন ধসে পড়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এমনকি ঐতিহাসিক মানিজালেস শহরের বিখ্যাত ক্যাথেড্রালের একটি টাওয়ার ফাটল ধরে আংশিক ভেঙে পড়েছে।
ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের বের করে আনতে সেনাসদস্য, পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলগুলো একটানা কাজ করে যাচ্ছে। ভারী এক্সকাভেটর ব্যবহারের পাশাপাশি অনেক জায়গায় খালি হাতেই কংক্রিট ও ইট সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম কালি শহর- যেখানে বাস করেন প্রায় ২২ লাখ মানুষ। সেখানে অন্তত ৮৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ডজন ডজন ভবন বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়ায় বা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় হাজার হাজার বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন।
কালির একটি হাসপাতালের পরিচালক আর্নে তরেস কাস্ত্রো স্থানীয় ‘কারাকোল’ টেলিভিশনকে জানান, হাসপাতালের ওপরের কয়েকটি তলা (যার মধ্যে শিশু বিভাগও ছিল) ধসে পড়েছে। এতে অনেক রোগী ভেতরে আটকা পড়েন এবং প্রায় ৬০০ রোগীকে বাইরে খোলা সড়কেই চিকিৎসা দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া কারমেন ইয়াসমিন গার্সিয়া নামে ৪৩ বছর বয়সী এক নারী স্বেচ্ছাসেবী বলেন, “আমরা একটি ভবন থেকে সাতজনকে জীবিত বের করতে পেরেছি। তবে এখনো চারজন মানুষ ও একটি কুকুর ভেতরে আটকা পড়ে আছে। কিছুক্ষণ আগেও ভেতর থেকে আঁচড়ানোর শব্দ পাচ্ছিলাম, কিন্তু এখন আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। তবে আমাদের বিশ্বাস আছে যে কুকুরটি এখনও বেঁচে আছে এবং আমরা ভেতরে থাকা মানুষদের বের করে আনতে পারব। আমাদের এখন প্রচুর লাঠি, কোদাল ও কাজ করার মতো মানুষের সাহায্য প্রয়োজন।”
বিমানবন্দরে আতঙ্ক, ধসে পড়েছে ছাদ
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রিসারালদা রাজ্যের রাজধানী পেরেইরাতে অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। শহরটির বেশ কিছু আবাসিক এলাকা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময় পেরেইরা বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবল কম্পন সৃষ্টি হয় এবং আতঙ্কিত যাত্রীদের আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটির মধ্যেই ছাদের বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে।
তাছাড়া, ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্রের সবচেয়ে কাছের গ্রামীণ এলাকা চোঁকো প্রদেশে আরো ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার তৎপরতা ও প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করতে কলম্বিয়া সরকার ইতোমধ্যেই জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে।
তথ্যসূত্র: সিবিসি
