কাজল সুইডেনে পড়তে এসে প্রথমে কাজ পাননি; সংকট ও হতাশায় দিন কাটে। পরে কোপেনহেগেনে ফার্নিচার ডেলিভারির কষ্টের কাজ করেন।
কাজল সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নয়, কাজকর্ম না পেলেও বছরখানেক থাকা–খাওয়ার খরচ সে চালাতে পারবে, এই বিশ্বাস আছে, সঙ্গে তিন লাখ টাকা সে নিয়ে এসেছে। এখন পড়ালেখার চাপ বাড়ছে। প্রতি মাসে একটি করে কোর্স শেষ করতে হয়। পাস করলে ক্রেডিট যোগ হবে। এক বছর পর পর্যাপ্ত ক্রেডিট জমা না হলে সুইডেনের ভিসা এক্টেনশন হবে না। এখানে পড়ার ধরন বাংলাদেশের তুলনায় পুরাই ভিন্ন। একাডেমিক রাইটিং এখনে শুরুতেই জানতে হয়। কাজলের জন্য বিষয়টা সহজ ছিল না। প্রথম একটা পরীক্ষা খারাপ হওয়ার পর কাজল রীতিমতো গবেষণা শুরু করে এবং কিছুদিনের মধ্যে এখানকার পরীক্ষা, সেমিনার, ইন্টারঅ্যাকটিভ পড়ালেখার বিষয়টি আয়ত্ত করে ফেলে।
দেশটি এত সুন্দর আর পরিপাটি, পুরো দেশের সৌন্দর্য প্রায় একই রকম দেখতে। কাজল আশপাশের দুই–একটা শহর দেখেছে, উন্নয়ন এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিটি শহরে একই রকম সুযোগ–সুবিধা পরিলক্ষিত হয়। এখানে উন্নত চিকিৎসা বা ভালো স্কুল–কলেজে পড়ার জন্য রাজধানী শহরে যেতে হয় না। সব শহরে প্রায় কাছাকাছি মানের স্কুল–কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় আছে। একটি দেশের উন্নত হওয়ার পেছনে এই বিষয়টা সবার আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন যে দেশের নাগরিক যে শহরেই থাকুক না কেন? সে যেন তার শহরেই সেরা সুবিধাটা পায়, হউক সেটা স্বাস্থ্য বা শিক্ষাসেবা।
সুইডেনসহ আশপাশের আরও কিছু দেশ মিলে এটাকে বলা হয় স্কেনেভিয়ান, এই দেশগুলো আবার সমাজ কল্যাণমূলক দেশ । অর্থাৎ বিপদআপদে দেশগুলো নাগরিকদের পাশে থাকে বিভিন্ন রকম সুবিধাসহ। এখানে শান্তিতে থেকে কীভাবে উন্নত জীবন ভোগ করা যায়, তার গবেষণা চলে। এই ধরনের দেশগুলো তাদের রাষ্ট্রীয় আইনকানুন তৈরি করতে গিয়ে প্রথমে যা চিন্তা করে তা হচ্ছে মানুষের সর্বোচ্চ শান্তি কীভাবে নিশ্চিত করা যায়।
