গ্যাস সংকটে বসে আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র


দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় সেই সক্ষমতার বড় অংশই কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিদ্যুতের চাহিদা যখন বাড়ছে, তখনও গ্যাস সংকটে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকছে। আবার কোনো কোনো কেন্দ্র চালু রয়েছে ঢিমেতালে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট। এরমধ্যে গ্যাসের অভাবে ২১টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ এবং আরও আটটি কেন্দ্র আংশিকভাবে চালু রয়েছে। এই ২৯টি কেন্দ্র পুরোদমে সচল করা গেলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হতে পারতো। অর্থাৎ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা থাকার পরও মূল সংকট তৈরি হয়েছে জ্বালানি সবররাহে।

বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে চলতি আগস্টে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই গড়ে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করছে সরকার। এমনকি ১০ আগস্ট মধ্যরাতের পর লোডশেডিং ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছে, যা সর্বকালের রেকর্ড বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে উৎপাদনে যেতে না পেরে একদিকে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেমন বসে আছে, অন্যদিকে মানুষকে পোহাতে হচ্ছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো গ্যাসের তীব্র সংকট।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশের ৫২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে দৈনিক ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে এই চাহিদার অর্ধেকও নিয়মিত সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

জাতীয়ভাবে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও স্থানীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে সর্বোচ্চ সরবরাহ করা সম্ভব হয় প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আবার এলএনজি সরবরাহে বিভিন্ন সমস্যার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও কমে প্রায় ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি শিল্প, পরিবহন ও গৃহস্থালি খাতেও গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে।

গ্যাস সংকটের কারণে কম খরচের বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৫ থেকে ৬ টাকা খরচ হলেও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে তা ১০ থেকে ১৪ টাকা এবং তেলভিত্তিক কেন্দ্রে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। ফলে গ্যাসের অভাবে কম ব্যয়ের কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রেখে বেশি ব্যয়ের জ্বালানিচালিত কেন্দ্র চালাতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক ব্যয়ও বেড়ে যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চাহিদার সময়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালানোর প্রয়োজন পড়ায় এই ব্যয় আরও বাড়ে।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে পারলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব। সাম্প্রতিক ঘটনায় তারই প্রমাণ মিলেছে।

গত ১৩ আগস্ট থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য গ্যাসের বরাদ্দ ৭০০ থেকে ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বাড়িয়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হয়। এরপরই গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন গড়ে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট থেকে বেড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটে উঠেছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, গ্যাস তথা জ্বালানি সংকট নিয়ে এখন আর লুকানোর কিছু নেই। সরকার দ্রুত আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল চালুর চেষ্টা করছে। কিন্তু এগুলোর কাজ শেষ করতে দুই বছর লেগে যাবে। এই মুহূর্তে এলএনজি আমদানি চালিয়ে যাওয়া ছাড়া গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর কোনো উপায় নেই।

এনএস/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *