ডেঙ্গু পরিস্থিতি পাঁচ বিভাগে উদ্বেগজনক: মীর শাহে আলম


দেশের আট বিভাগের মধ্যে পাঁচটিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল তুলনামূলক বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। 

মীর শাহে আলম বলেন, চলতি বছরের এক জানুয়ারি থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১৩০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ হাজার ২১৮ জন। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই তিন মাস ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোগীর সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি। 

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাস ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ চালাবে সরকার। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বিশেষ এ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। 

তিনি আরো জানান, ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই সময়ে দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা প্রশাসন ও ৫০৩টি উপজেলা প্রশাসন পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেবে। এরপর প্রতি শনিবার সারা দেশে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশে পানি জমতে পারে—এমন স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে যুক্ত হতে হবে। 

ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকার উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অন্তত পাঁচটি করে শয্যা আলাদা রাখতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন পর্যাপ্ত রয়েছে। আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যোগ করেন তিনি। 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *