তিন বিভাগে বন্যার আশঙ্কা
ভারী বর্ষণ এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে দেশের তিন বিভাগের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
পাউবোর সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা এবং নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও বাড়ছে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেলের দিকে কিছুটা কমে আসে। তবে পানি কমতে শুরু করলেও নদীভাঙন বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এবং কয়েকটি বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃহস্পতিবারের (৬ আগস্ট) মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানিও আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টিতে জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় কর্মদিবসের শুরুতেই ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ফলে পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, রিকশাচালক, ভ্যানচালক এবং নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিন দেশের আট বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
